• বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ পাইনি: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৮ Time View
Update : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর হয়েছে। আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বলেছিলাম, জুলাই গণহত্যার বিচার ও সংস্কারের মাধ্যমে আমরা একটা বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ করতে চাই। সেই বাংলাদেশ, আমাদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ, আমরা এখনো পাইনি।

বুধবার জুলাই বিপ্লবের দুই বছর উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ কর্মসূচি অংশ হিগসেবে রায়ের বাজারে জুলাইয়ের শহিদদের গণকবর জিয়ারত শেষ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

হাসানুল হক ইনুর রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন গতকালকে ট্রাইব্যুনালের একটি বিচারের রায় এসেছে, কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই রায় বাংলাদেশের জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এবং আমরা মনে করি সেই রায়ের মাধ্যমে আমরা যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলাম, যারা শহীদ পরিবার, যারা আহত যোদ্ধা রয়েছে, তারা কোন ন্যায়বিচার পায়নি। হাসানুল হক ইনু্ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষভাবে গণহত্যায় মদদ যুগিয়েছিলেন। গণহত্যার যে সিদ্ধান্ত ছিল, শেখ হাসিনা যিনি প্রধান সিদ্ধান্তকারী ছিলেন, তাকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছেন। ফলে আমরা মনে করি তাকে যে ১০ বছর করে তিনটি মামলায় সাজা দিয়েছে, এটা যথেষ্ট নয়। আমাদের আবেদন থাকবে রাষ্ট্রপক্ষ যাতে এটা আপিল করে এবং আমরা তার কঠোর থেকে কঠোরতর বিচার প্রত্যাশা করছি।’

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে দেশে এনে দ্রুত সাজা কার্যকরের দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।‌ বলেন, ‘আমরা আশা করব যে শেখ হাসিনাকে-সহ জুলাই গণহত্যাকারী এবং ওসমান-হাদীর হত্যাকারী যারা ভারতে পালিয়ে রয়েছে, তাদেরকে দেশে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় সেটি কার্যকর করা হবে।’

আমাদের যে অন্যতম দাবি যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংস্কার বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন। আমরা দেখলাম এই নির্বাচনের যে গণভোট এবং নির্বাচনের অন্যতম কমিটমেন্ট ছিল কাঠামোগত সংস্কার, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। আমরা এই সংস্কার এখনো পাইনি। ফলে এবারের জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন, সেটার বার্ষিকী পালনের আমাদের অন্যতম মটো হচ্ছে গণহত্যার বিচার এবং সংস্কার বাস্তবায়ন।

নাম সর্বস্ব জুলাই উদযাপন না করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, শুধু নামকাওয়াস্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালন করলে হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা—সংস্কার বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে আছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাথে আছে। এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতীয় জাদুঘর যেটা, সে জাদুঘর খুলে দেওয়া হচ্ছে না। ৫ই আগস্টের মধ্যে জুলাই জাতীয় জাদুঘর খুলে দিতে হবে, না হলে জনগণ নিজেরাই সেই জাদুঘর কিন্তু খুলে নিবে এবং নিজেরাই সেই জাদুঘরে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে।’

জুলাইয়ের শহিদ ও আহতদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফারহান ফায়াজ, রিয়াগোপ-সহ জুলাইয়ের যেই ১৪০০ শহীদ এবং ত্রিশ যারা আহত রয়েছেন, জুলাই যোদ্ধা যারা রয়েছেন, তাদেরকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে যে অসংখ্য অগণিত বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ রাজপথে নেমে এসেছিল—পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা—আমরা তাদেরকে স্মরণ করছি। আমরা স্মরণ করছি শ্রমিক ভাই ও বোনেরা, নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেমে জীবন দিয়ে এই গণঅভ্যুত্থানকে সফলকাম করেছিল। এবং আমরা স্মরণ করছি আমাদের নারী সমাজকে। আমরা স্মরণ করছি আমাদের পেশাজীবী যারা, আমাদের যারা শিক্ষক, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আমাদের আলেম সমাজ, আমাদের সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আইনজীবী-সহ যারা বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষেরা এই গণঅভ্যুত্থানে নেমে এসেছিল। এবং আমরা স্মরণ করছি আমাদের প্রবাসী ভাই ও বোনেরা, যারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে, মধ্যপ্রাচ্য-সহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যারা আন্দোলন করেছিল, বাংলাদেশী এবং বাংলাদেশের বাইরে বিদেশী অনেক বন্ধুরা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছিল।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হুসাইন সিএফ, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশীদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির আহ্বায়ক ইসহাক সরকার ও সদস্য সচিব এসএম শাহরিয়ারসহ নেতৃবৃন্দ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category