• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

বৃষ্টিতে বাজার চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে নাকাল রাজধানী বাসির জনজীবন। একই সঙ্গে প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারেও। জলাবদ্ধতা, পরিবহন সংকট এবং সরবরাহে কিছুটা বিঘ্নের কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ডিমের। বেশিরভাগ মাছ বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। তবে, স্বস্তির খবর হলো- গরুর মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দামে বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি।

ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টিতে পাইকারি বাজার থেকে পণ্য আনা-নেওয়ায় কিছুটা সমস্যা তৈরি হওয়ায় ডিমের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে নদী ও খালবিল থেকে মাছ আহরণও কিছুটা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর নিউমার্কেট, লালবাগ, ইসলামবাগসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

টিসিবির হিসাবে বুধবার থেকে সরু ও মোটা চালের দাম খুচরা বাজারে কেজিতে ২ টাকা কমেছে। তবে, খোলা সয়াবিনের দাম ২ টাকা বেড়ে ১৮৮-১৯৫ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়ে ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়।

বাজারে এখন প্রতি ডজন ফার্মের ব্রাউন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, আর সাদা ডিম ১২০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এই ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে ডিমের দাম।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি ডিম বিক্রেতা রুবেল বলেন, ‍“গত কয়েকদিনে পাইকারি বাজারেই ডিমের দাম বেড়েছে। যে কারণে খুচরা বাজারেও দামের প্রভাব পড়েছে। বৃষ্টির কারণে সরবরাহেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে।”

মাংসের বাজারে অবশ্য বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের দাম রয়েছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে চিত্র ভিন্ন। অধিকাংশ মাছই উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৩০০ থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে তুলনামূলকভাবে চাষের মাছের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, রূপচাঁদা, নদীর বোয়াল ও বড় শোল কিনতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি গুণতে হচ্ছে।

পলাশি বাজারের মাছ বিক্রেতা জহির উদ্দিন বলেন, “কয়েক মাস ধরেই মাছের বাজার খুব একটা ওঠানামা করছে না। তবে, ইলিশের দাম এখনো অনেক বেশি।” তার ভাষায়, গত তিন-চার বছরে ইলিশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বাজারে চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ সেই তুলনায় কম।

আজিমপুরের বাসিন্দা রহমান সানা মাছ কিনতে এসে বলেন, “প্রায় সব মাছের দামই বেশি। বৃষ্টির কারণে দাম বেড়েছে কি না জানি না, তবে বাজারে এসে স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। মাছের দাম এক সপ্তাহ আগে আরো কম ছিল।”

এদিকে, বাজারে কাঁচা কলা প্রতিহালি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। মানভেদে প্রতিকেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। চাল কুমড়ার দাম ২০ টাকা। গাজরের দাম মান ভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বেগুন ৭০-৮০ টাকা, পটোল বিক্রি হয় ৫০-৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। ঝিঙ্গা ৬০-৭০, কাঁকরোল ৭০-৮০, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা ৫০-৬০, কচুরলতি ৭০-৯০, বরবটি ৬০-৮০, শসা ৬০-৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

বর্ষাকাল হওয়ার বাজারে শাকের সরবরাহ বেশি। লাল শাক প্রতিআটি ১০ টাকা আর পুইশাক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়।

বাজারে চালের দাম নতুন করে বাড়েনি। আগের দামেই কিনছেন ক্রেতারা। মিনিকেট চালের দাম ৭৫ টাকা। মোটা চাল ৫৫-৬০ টাকা। নাজিরশাইল চাল ৯০ টাকা। চিনিগুড়া চালের দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category