• বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ন
নতুন গাড়ি ক্রয়

ভূমি অধিগ্রহণ এবং নতুন ভবন নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দোশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৪ Time View
Update : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

মুল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণ, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্যয় সংকোচন নীতি আবারও বহাল রাখল  নির্বাচিত সরকার।

কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে  ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দিয়ে জরুরি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এতে নতুন গাড়ি কেনা, বিদেশ সফর, ভূমি অধিগ্রহণ এবং নতুন ভবন নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয় সীমিত বা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ-১ থেকে জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন অর্থবছরের বাজেটে ব্যয় সংকোচন, অগ্রাধিকারহীন ব্যয় কমানো এবং সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, এই পরিপত্র তারই বাস্তব প্রতিফলন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা

পরিপত্র অনুযায়ী পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার ব্যয় বন্ধ থাকবে। তবে পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে সীমিত ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ১০ বছরের বেশি পুরোনো সরকারি যানবাহন প্রতিস্থাপনের সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন যানবাহনকে পরিবেশবান্ধব ফুল ইলেকট্রিক ভেহিকল (এফইভি) হতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে একদিকে ব্যয় সাশ্রয়ী, অন্যদিকে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন ভবন নির্মাণে কড়াকড়ি

সরকারি অর্থে নতুন আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন নির্মাণে ব্যয় স্থগিত করা হয়েছে। তবে যেসব নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে, সেসব প্রকল্প অর্থ বিভাগের বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষে অর্থ ছাড় পেতে পারে।

অর্থ বিভাগ মনে করছে, চলমান প্রকল্প শেষ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে নতুন প্রকল্পের কারণে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমবে এবং উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়বে।

ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বন্ধ

পরিচালন বাজেটে ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত অর্থ ছাড়ের আগে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই খাতে অধিকতর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

বিদেশ সফরে কঠোর নিয়ন্ত্রণ

সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা ও সম্মেলনে অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে বিদেশি সরকার বা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।

একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে পরিচালিত মাস্টার্স ও পিএইচডি কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অর্থ বিভাগের ভাষ্য, সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে বাহ্যিক অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হবে।

কর্মকর্তাদের গাড়ি ঋণও স্থগিত

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য দেওয়া বিশেষ ঋণ কর্মসূচির বরাদ্দও স্থগিত করা হয়েছে। ব্যয় সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রযুক্তি পরীক্ষা ও বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত প্রিশিপমেন্ট

ই-পণ্য চালানের পূর্বপরিদর্শন (পিএসআই) এবং কারখানা গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা ( এফএটি)-এর মতো প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বা সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। এতে বিদেশ ভ্রমণ ব্যয় কমার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতাও বাড়বে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ।

‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিতের নির্দেশ

পরিপত্রের শেষ অংশে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে ‘ভ্যালু ফর মানি’ বা অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ কম খরচে সর্বোচ্চ ফল নিশ্চিত করার নীতি অনুসরণ করতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণে চাপ, বৈদেশিক অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং বাজেট ঘাটতির বাস্তবতায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটেও ব্যয় দক্ষতা বৃদ্ধি ও অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category