গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকায় দুই সন্তানকে কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মনি আক্তার (৪০) নামে এক নারী। এ ঘটনায় গুরুতর তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী ছাতির বাজার এলাকার গ্রিন স্মার্ট কারখানার সামনে অবস্থিত একটি বাসায় ঘটনাটি ঘটে।
অসুস্থ হয়ে পড়া দুই শিশুর নাম আরাফাত (৪) এবং মায়শা (২)। তারা মোবারক হোসেন ও মনি আক্তার দম্পতির সন্তান। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকায় বসবাস করেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে মনি আক্তার প্রথমে তার দুই শিশুসন্তানকে কীটনাশক পান করান। পরে তিনি নিজেও একই বিষ পান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত মা ও দুই শিশুকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিশু আরাফাত ও মায়শার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত পৌনে ১০টার দিকে মনি আক্তারের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে তাকেও একই হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে শিশুদের বাবা মোবারক হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিজন মালাকার জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মা ও তার দুই সন্তানকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর শিশু আরাফাত ও মায়শাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মনি আক্তারকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত পৌনে ১০টার দিকে তাকেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, “ওসি (অপারেশন) ঘটনাস্থলে গেছেন। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”