রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ঢাকার যানজট কমানো এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কাঁচপুরে নতুন বাস টার্মিনাল নির্মাণে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই দিনে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) এলাকার ৯টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র আধুনিকায়নে ১৪১ কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পর স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চার মাসের মধ্যে নতুন টার্মিনাল ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশ দেয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে প্রকল্পটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ ২ হাজার ৫৩২ টাকা। এর আওতায় প্রায় ৪ হাজার ১২ বর্গমিটার প্ল্যাটফর্ম ঢালাই ও টাইলস বসানো হবে। নির্মাণ করা হবে ১২০টি টিকিট কাউন্টার, ৩২টি টয়লেট, অফিস কক্ষ, যাত্রীসেবা কেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক অবকাঠামো। পাশাপাশি প্রোফাইল শিট দিয়ে বড় আকারের শেড নির্মাণ করা হবে, যাতে একসঙ্গে বহু বাস ও যাত্রী সেবা নিতে পারে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কাঁচপুরে টার্মিনাল স্থানান্তর করা গেলে সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও শনির আখড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ব্যবহারকারী দূরপাল্লার বাসগুলো রাজধানীর ভেতরে প্রবেশ না করেই যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
এদিকে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন ‘নেসকো এলাকায় নেটওয়ার্ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় রংপুর অঞ্চলের ৯টি ৩৩/১১ কেভি এআইএস উপকেন্দ্রের নকশা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষণ এবং চালুকরণের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪১ কোটি ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ৭৬ টাকা।
কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে অ্যাডেক্স করপোরেশন লিমিটেড (এসিএল) ও অ্যাডেক্স ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের (এইইএল) যৌথ উদ্যোগ।
বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপুর অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে এবং গ্রাহক পর্যায়ে ভোল্টেজ সমস্যা ও লোড ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।
একই বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি ভেরিয়েশন প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার একটি সেতু নির্মাণকাজে অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রকল্পটির মূল চুক্তিমূল্য ছিল ১১০ কোটি টাকা। নতুন অনুমোদনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৬ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার ৬১৯ টাকা যুক্ত হয়েছে, যা মূল চুক্তিমূল্যের ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ফলে সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ১১৬ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার ৬১৯ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বিশেষ করে কাঁচপুরে নতুন বাস টার্মিনাল চালু হলে রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে যানবাহনের চাপ কমানোর পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।