বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
১৯৪৩ সালে মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা এস রহমান ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। পরিবারটির রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মোশাররফ হোসেনও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন গড়ে তোলেন। তিনি ২০ বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন। ছাত্রজীবনেই তিনি ছয় দফা আন্দোলনে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চট্টগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে তার নেতৃত্বে শুভপুর ব্রিজ উড়িয়ে দেওয়া হয়, যা কুমিল্লা থেকে আসা সেনাদের পথ রুদ্ধ করেছিল। পরে তিনি ভারতে গিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে বিভিন্ন অপারেশনে অংশ নেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের মধ্যেও তিনি অন্যতম ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং পরে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্বকালে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। দলের আদর্শে অবিচল থাকা, স্পষ্টবাদিতা ও সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের জন্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী আয়েশা সুলতানা, সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব রহমান রুহেল-সহ তিন ছেলে, এক মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নের এস রহমান কলেজ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।