• বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পিরোজপুরের সড়কগুলো দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পুশইনের ঘটনা ঘটলে ব‍্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুফানে নিলো ঘরবাড়ি আর পানিয়ে নিলো ধান,কৃষকের হাহাকার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে, একদিনে নতুন আক্রান্ত ৭৬ চট্টগ্রামের নতুন এসপি ‘ডিসি মাসুদ’ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা সিএজি’র অডিট রিপোর্টে স্থান পেয়েছে বালিশ কাণ্ডের দুর্নীতির প্রতিবেদন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস অনুসন্ধানে খনন কাজ শুরু এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে সংসদকে শক্তিশালী করতে হবে : চিফ হুইপ বিনিয়োগ বাড়াতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

তুফানে নিলো ঘরবাড়ি আর পানিয়ে নিলো ধান,কৃষকের হাহাকার

Reporter Name / ৯৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ফসলের মাঠ জুড়ে শুধুই হাহাকার। উপজেলার কৃষি অধ্যুষিত আদমপুর ইউনিয়নের শত শত একর ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গ্রামীণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে মংগলবার (০৫ মে) ভানুবিল, মাঝেরগাঁও ও ছনগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যাতায়াতের সড়কগুলো এখন নদীর মতো পানিতে ভাসছে। দূর থেকে বোঝার উপায় নেই এটি সড়ক নাকি প্রবাহমান কোনো নদী। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা ধানের ক্ষেত। অনেক স্থানে সড়ক ভেঙে গেছে এবং অসংখ্য বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে মাটির ঘরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বোরো চাষের সুবিধার্থে লাউয়াছড়ার ওপর নির্মিত একটি স্লুইস গেট (বাঁধ) এই দুর্যোগের অন্যতম কারণ। বর্ষা মৌসুমে গেটটি ওপরে তুলে রাখার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে কয়েকদিনের টানা অতিবৃষ্টিতে পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারেনি। একপর্যায়ে ছড়ার বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি আশপাশের ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে।

এতে ধানসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়ে যায় এবং বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।কৃষক রকিব আলী মিলন মিয়া, আকরম আলী, দিয়ে দিলবর মিয়া,বুধ সিংহ সহ গ্রামবাসীর সাথে আলাপচারিতায় জানা যায়, বহু বছর তারা এ কৃষি কাজ করে আসছেন কিন্তু এরকম ক্ষতিগ্রস্ত হননি। অনেকেই বর্গা চাষী। বুক ভরা আশা নিয়ে ধার দেনা করে সার,বীজ কীটনাশক ক্রয়সহ হালচাষ বাবদ একর প্রতি ৭০/৮০ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন।এখন একেবারে নিঃস্ব। কান্নাজড়িত কন্ঠে তারা বলেন, “তুফানে নিলো ঘরবাড়ি আর পানিয়ে নিলো ধান, আমরা অখন দিশাহারা “, (ঝড়ে নিলো ঘরবাড়ি আর বন্যায় নিলো ধান। আমরা এখন দিশেহারা)। সরকারি সহায়তা ও কৃষি প্রণোদনা পাওয়ার আকুতি তাদের।

এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবদাল হোসেন বলেন, “বর্ষা মৌসুমে সুইস গেট না তোলা এবং ছড়া খনন না করার কারণেই ছড়ার পাড় ভেঙে বন্যা দেখা দিয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, “অতিবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় ও বন্যার কারণে উপজেলায় প্রায় ২৭০ হেক্টর ধানি জমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদান করা হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category