ক্রিড়া প্রতিবেদক
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। অথচ শেষ মুহূর্তেও কাটেনি ইরান দলের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতির কারণে দলের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ইরানের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, ফুটবলাররা ভিসা পেলেও দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফ এখনো অনুমোদন পাননি, যা বিশ্বকাপের আগে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইরান তাদের বেস ক্যাম্প হিসেবে মেক্সিকোর তিহুয়ানাকে বেছে নিয়েছে। সেখান থেকে ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করার পরিকল্পনা ছিল দলটির। তবে ভিসা জটিলতা ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে প্রস্তুতির পুরো পরিকল্পনাই বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়রা।
ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনুই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের গত সপ্তাহেই এখানে পৌঁছানো উচিত ছিল। কারণ ১২ ঘণ্টার সময়ের ব্যবধানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের টুর্নামেন্টে প্রযুক্তিগত বিষয়গুলোর আগে নৈতিক ও মানবিক দিককে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সেটি যথাযথভাবে করা হয়নি বলে আমি মনে করি।”
ইরানি ফুটবলারদের অভিযোগ, ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরো দলের মধ্যে অতিরিক্ত চাপ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের মতে, বিশ্বকাপের মতো আসরে সব দলের সমান সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা তাদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক স্টাফদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলতে পারে বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভিসা সংকটের ছায়া নিয়েই এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে নামছে ইরান। ফলে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই দলটিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে আরেক কঠিন প্রতিপক্ষকে—কূটনৈতিক বাস্তবতাকে।