বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, “আমরা যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছি, তাতে শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবেই। ভবিষ্যতে আপনারা এটি দেখতে পাবেন। ভবিষ্যতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর তদারকিও অনেক বাড়িয়ে দেব। এই বাজারে আস্থা ফিরবেই, ইনশাআল্লাহ।”
শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে প্রাইম ইউনিভার্সিটি এবং বিরোধীদল হিসেবে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করেন।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা ডিএসইকে বলেছি, আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের সার্ভেইল্যান্স বিভাগকে এআইভিত্তিক করতে হবে। তখন আর কারসাজিকারীরা চাইলেই দুর্বল শেয়ারে কারসাজি করতে পারবে না। কোনো শেয়ারে অস্বাভাবিক দাম বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটির লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে।”
মাসুদ খান বলেন, “ডিএসইর নতুন ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনুমোদন ছাড়া বিনিয়োগকারীর মোবাইল নম্বর বা ই-মেইল পরিবর্তন করা যাবে না। পাশাপাশি নিয়মিত ও ঝুঁকিভিত্তিক অডিট চালুর মাধ্যমে বিশেষ করে ছোট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।”
তিনি বলেন, “বিগত চার দশকে পুঁজিবাজারের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু তাদের অধিকাংশেরই পুঁজিবাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। তারা অন্যের কথা শুনে বিনিয়োগ করেন এবং দুর্বল শেয়ারে বিনিয়োগ করে বারবার প্রতারিত হন।”
বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, “ব্যবসায়িক গোপনীয়তা, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং করপোরেট কৌশল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা, স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক শর্তের কারণেও তারা শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহী হয় না। তবে কমিশন এমন কিছু নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হয়।”
আইপিও সম্পর্কে মাসুদ খান জানিয়েছেন, বর্তমানে নির্ধারিত পাঁচ বছরের অডিটেড আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য ও বহু বছরের নথিপত্র চাওয়া হয়। ফলে আইপিও অনুমোদনে এক থেকে দেড় বছর সময় লেগে যায়। প্রচলিত অডিটে নমুনাভিত্তিক যাচাই হওয়ায় অনেক অনিয়ম ধরা পড়ে না। তাই ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে কোম্পানির সম্পদ ও অন্যান্য আর্থিক তথ্যের পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা হলে আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও সময়সাশ্রয়ী হবে।