আর্থিকভাবে চাপে ফেলতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ট্রাম্পের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ প্রায় চূড়ান্ত। এতে আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন নিষেধাজ্ঞার পথে হাটছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন চলতি সপ্তাহে অথবা এর পরপরই এ বিষয়ে নির্বাহী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করতে পারে ওয়াশিংটন। রয়টার্সও বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আইসিসির পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ছয় থেকে সাত মাসের একটি সময়সীমা পার হওয়ার পর আইসিসির সঙ্গে অধিকাংশ আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক এই আদালতের বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির নির্দিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এবার পুরো প্রতিষ্ঠান ও আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনকে লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। ওই আদেশে আদালতের কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবৈধ ও ভিত্তিহীন পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
আইসিসির নথি অনুযায়ী, আদালত নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার, বেসামরিক জনগণের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা এবং হত্যা, নিপীড়ন ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এসবই আদালতের প্রাথমিক পর্যায়ের অভিযোগ ও বিচারিক সিদ্ধান্তের অংশ; চূড়ান্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় নয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও রয়টার্স