লিটারপ্রতি জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারের এমন সিদ্ধান্তে জনগণের জীবন-জীবিকাও দুর্বিসহ হওয়া শঙ্কা প্রকাশ করেছে খেলাফত মজলিস। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব ধরণের জ্বারানির মূল্য বর্ধিত করায় মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যায় আরও বাড়বে। এত সাধারণ জনগনের কষ্ট দ্বিগণ হবে। ফলে মূল্যস্ফীতির বাজারে তেলের নতুন দাম প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার দাবি জানানো হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। এতে জনজীবন আরো বিপর্যস্তকর পরিস্থিতির দিকে যাবে। মানুষের টিকে থাকা চরম কঠিন হয়ে পড়বে।
তারা বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের বেশি। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়ানো হলে মূল্যস্ফীতি আরেক দফা বাড়বে। বিগত পাঁচ মাসে সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। রবিবার আবারো তেলের দাম বাড়ানো হলো। এরপর হয়তো গ্যাসের দামও বাড়ানো হবে। এতে সাধারণ মানুষের টিকে থাকা চরম কঠিন হয়ে পড়বে।
খেলাফত মজলিসের নেতারা বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৪ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে মাত্র ১৪ লাখ মানুষের বেতন ও জীবনমান বেড়েছে। কিন্তু সিংহভাগ সাধারণ জনগণের অবস্থা এখনো করুণ।
তারা প্রশ্ন করেন, মানুষের যদি ক্রয়ক্ষমতা না থাকে, তাহলে শুল্ক-কর আসবে কোথা থেকে? তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার যতটুকু ভর্তুকি কমাবে, তার চেয়ে বেশি রাজস্ব হারাতে পারে। একইসঙ্গে জনগণের জীবন-জীবিকাও দুর্বিসহ হয়ে উঠবে।
বিবৃতিতে তারা জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার দাবি জানান। একইসঙ্গে অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।