• বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

যুদ্ধের মধ্যেই রাশিয়ার ওপর শুল্ক কমালো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৩৬ Time View
Update : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যেই রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির ওপর পূর্বপ্রস্তাবিত পাঁচশত শতাংশ শুল্ক আরোপের অবস্থান থেকে সরে এসেছে মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

নতুন এই নীতিমালার ফলে রুশ জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ একশত শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা ভারত ও চীনের মতো প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই দ্বিপক্ষীয় বিলটি মূলত রুশ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ভারত ও চীনকে রাশিয়ার ওপর জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার চার বছর ধরে চলা সামরিক অভিযান বন্ধ করতে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করাই মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মূল লক্ষ্য। এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় বিশ লাখ সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন এবং কিয়েভের প্রায় দুইশত বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বর্তমানে বিশ্ববাজারে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশ হলো চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান। অন্যদিকে চীন, ফ্রান্স, জাপান, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম রুশ প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান আমদানিকারক।

সংশোধিত এই বিলে একটি বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার ফলে যেসব দেশ রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের পনেরো শতাংশের কম আমদানি করে এবং এই নির্ভরতা কমাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে, তারা শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এই নিয়মের অধীনে জাপান, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পারে।

নতুন এই খসড়া আইনে পশ্চিমা সামুদ্রিক পরিষেবার বাইরে থাকা রাশিয়ার গোপন বা ‘শ্যাডো ট্যাংকার’ বহর, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ইয়ামাল এলএনজি ও আর্কটিক এলএনজি এক, দুই ও তিন-এর মতো বড় রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রকল্পগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি মনে করেন যে কোনো দেশের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের জন্য অনুকূল, তবে তিনি তা সাময়িকভাবে স্থগিত বা মওকুফ করার আইনি ক্ষমতা পাবেন।

গত সপ্তাহে প্রয়াত হওয়া সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মৃত্যুর ঠিক এক দিন আগে ইউক্রেন সফরকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এই বিলটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। বিলটি প্রথম ২০২৫ সালের এপ্রিলে উত্থাপিত হয়েছিল এবং বর্তমানে এটির পক্ষে ছাব্বিশ জন সিনেটরের সমর্থন রয়েছে।

এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিলে ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যদিও বিলের মূল উদ্যোক্তা ব্লুমেনথাল এই মুহূর্তে নতুন কোনো লক্ষ্যবস্তু যোগ করে বিল প্রক্রিয়াকে জটিল না করার পক্ষে মত দিয়েছেন। সিনেট সূত্র জানিয়েছে যে এই বিলের মাধ্যমে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাতকে সহায়তাকারী ইরান ও অন্যান্য দেশগুলোও পরোক্ষভাবে শুল্কের মুখোমুখি হবে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category