• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩০ অপরাহ্ন

ব্যাংককে বারে ভয়াবহ আগুনে নিহত ২৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১৯ Time View
Update : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের চাতুচাক জেলার একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় নারী-পুরুষ মিলিয়ে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী রয়েছেন। এছাড়া আরও ৬০ জনেরও বেশি মানুষ দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন৷ এর মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রবিবার (১২ জুলাই) স্থানীয় সময় মধ্যরাতের কিছু পরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসির।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ‘রং বিয়ার না লাত প্রাও’ নামের ওই বারটিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এক পথচারী গাড়িচালক প্রথমে আগুন দেখে গাড়ি থামিয়ে জানালা ভেঙে দুজনকে উদ্ধার করেন এবং দমকল বাহিনীকে খবর দেন।

ঘটনার সময় বারের ভেতরে থাকা এক সংগীতশিল্পী জানান, মঞ্চের কাছের একটি প্রধান কাট-আউট সুইচে প্রথমে আগুন লাগে এবং মুহূর্তের মধ্যে একটি বিস্ফোরণ ঘটে পুরো ভেন্যুতে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বারের সদর দরজা দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা বের হচ্ছে এবং ভেতরে থাকা আতঙ্কিত মানুষ চিৎকার করতে করতে ও একে অপরের ওপর পড়ে গিয়ে প্রাণভয়ে পালানোর চেষ্টা করছেন।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সাংবাদিকদের জানান, আগুন লাগার পর অনেকেই বাইরে বের হওয়ার পথ না পেয়ে ভবনের পেছনের দিকে চলে যান ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতে টয়লেটের ভেতরে আশ্রয় নেন। দুর্ভাগ্যবশত সেখানেই বেশিরভাগ মানুষের মরদেহ পাওয়া গেছে। দমকল কর্মীরা প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে বহু মানুষ ভেতরে আটকা পড়েন।

ব্যাংককের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক সুরিয়াচাই রাভিওয়ান জানান, প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, বেশিরভাগ ভুক্তভোগীর মৃত্যু হয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যাংককের গভর্নর চাটচার্ট সিট্টিপুন্ট বলেন, বারের ছাদে থাকা অত্যন্ত দাহ্য অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার সামগ্রীর কারণে আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া ভবনের জরুরি বহির্গমন পথের কাছেও বহু মানুষকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, টেবিল বা অন্য কোনো আসবাবপত্র দিয়ে জরুরি পথটি আটকে থাকায় মানুষ সময়মতো বের হতে পারেনি। তবে ফরেনসিক তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বর্তমানে পুরো এলাকাটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। বারের ভেতরের দেয়াল, আসবাবপত্র ও ছাদ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বাইরে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে নিহতদের মরদেহের ব্যাগ।

থাইল্যান্ডে নাইটক্লাব বা বারে অগ্নিকাণ্ড এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০০৯ সালে ব্যাংককের একটি নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে ৬৬ জন এবং চার বছর আগে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি বারে ২২ জন নিহত হন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category