মিয়ানমারের জলসীমায় রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ৫৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো জানায়, নৌকা দুটি জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। আরোহীদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন নিপীড়িত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্য। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে গিয়ে ওই নৌকা দুটিতে চড়েছিলেন বলে জানা গেছে। খবর তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ২৫০ জন যাত্রী নিয়ে প্রথম নৌকাটি রওনা হওয়ার পরপরই নিখোঁজ হয় এবং সেটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে, প্রায় ২৮০ জন যাত্রী নিয়ে দ্বিতীয় নৌকাটি গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের আইয়ারওয়াদি উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের সংস্থা দুটি জানিয়েছে, যদিও এই ঘটনা এবং হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবুও সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানির আশঙ্কায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা উল্লেখ করেছে, জীবন বাঁচাতে ও নিরাপত্তার সন্ধানে অত্যন্ত বিপজ্জনক এই সমুদ্রযাত্রার ঝুঁকি নিয়েছিলেন এই রোহিঙ্গারা।
আনাদোলুর প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মিয়ানমারে সামরিক জান্তা ও অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠী দ্বারা প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হয়ে, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে প্রতিনিয়ত এভাবে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।