সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা কমানোর যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের আগের নির্দেশনা বাস্তবায়নে না এগোতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নতুন করে জানানো হয়েছে। ফলে আপাতত মাসিক ৫০ হাজার টাকার বিদ্যমান সুবিধাই বহাল থাকছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে পাঠানো এক চিঠিতে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসিক ভাতা ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা শুরু হওয়ার পর সেই উদ্যোগে পরিবর্তন এসেছে। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে অর্থ বিভাগ আরেকটি চিঠি দিয়ে আগের নির্দেশনার ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ জানায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যয় কমানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও বিষয়টি নিয়ে আরো পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তাই আপাতত আগের অবস্থাই বহাল রাখা হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, এই সুবিধা শুধু কর্মকর্তাদের নয়, চালক ও সংশ্লিষ্ট সেবাখাতের সঙ্গেও জড়িত। প্রস্তাবটি প্রকাশের পর বিভিন্ন পর্যায় থেকে আপত্তি ও মতামত আসে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পথে হাঁটছে সরকার।
এর আগে সরকার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে উপসচিব ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি কেনায় দেওয়া ৩০ লাখ টাকার সুদমুক্ত ঋণ সুবিধাও সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, উপসচিব থেকে শুরু করে সিনিয়র সচিব পর্যন্ত কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাড়ি কেনায় সুদমুক্ত ঋণ পান। পাশাপাশি গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ও চালকের ব্যয় মেটাতে মাসিক ৫০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়।
এই সুবিধা ধাপে ধাপে বেড়েছে। ২০১১ সালে যুগ্ম সচিব ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা ছিল ২৫ হাজার টাকা। পরে কয়েক দফায় তা বাড়িয়ে ৩০, ৩৫, ৪৫ এবং সর্বশেষ ৫০ হাজার টাকা করা হয়। ২০১৭ সালে উপসচিবদেরও একই সুবিধার আওতায় আনা হয়।
প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যয় সংকোচন সরকারের অগ্রাধিকার হলেও বাস্তবতা, প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ফলে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা কমানোর বিষয়টি আপাতত স্থগিত থাকলেও ভবিষ্যতে এটি আবার পর্যালোচনায় আসতে পারে।