দেশব্যাপী যখন সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই শহীদ দিবস নিয়ে নানা আয়োজন, তখন রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে জুলাই শহীদ দিবস নিয়ে কলেজ প্রশাসনের নেই কোনো আয়োজন।
গত ২০২৪ সালের সম্পূর্ণ জুলাই মাসজুড়ে রক্তক্ষয়ী এক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ রংপুরের আবু সাঈদ ২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শহীদ হন এবং সেই দিনটিকে স্মরণ করে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ ঘোষণা করা হয়।
তবে সারা দেশব্যাপী এই দিনটিকে স্মরণ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা রকম আয়োজন থাকলেও জুলাই আন্দোলনে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখা সরকারি তিতুমীর কলেজে তার ভিন্ন চিত্র। কোনো প্রকার আয়োজন না দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন কলেজটির ক্যাম্পাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
এই বিষয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ইমরান মোল্লা বলেন, জুলাই শুধু একটা মাস না, এটি হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আসা এক গণবিপ্লব। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ২ জুলাই এই মাসের ১৬ তারিখকে মন্ত্রীপরিষদ কর্তৃক ‘জুলাই শহীদ দিবস’ ঘোষণা করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, আজ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে সম্মানের সাথে এই দিবস পালন করা হলেও আমাদের থার্ড ক্লাস প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং আমরা দেখেছি, এই মেরুদণ্ডহীন প্রশাসন জুলাই রিলেটেড প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে বাধা দিতে অডিটোরিয়াম দেয়নি, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমাদের কাছে অকল্পনীয়। প্রশাসনের জুলাই কেন্দ্রীয় প্রোগ্রাম নিয়ে উদাসীনতা প্রমাণ করে তারা স্বৈরাচারের সহচর। তাদের দিয়ে আর যা-ই হোক, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখা যায় না।
এ বিষয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ সারিতে থাকা ছাত্রদল নেতা মেরাজ আল ওয়াসি বলেন, কলেজ প্রশাসনে এখন যারা আছেন, তারা অধিকাংশ আওয়ামী লীগের দোসর। ক্যাম্পাস এখনো দোসর মুক্ত হয়নি, অতি শীঘ্রই এই ক্যাম্পাসকে দোসর মুক্ত করে, জুলাইয়ের বিভিন্ন বিষয় বাস্তবায়ন করতে হবে, এবং দীর্ঘদিন এই জুলাই কে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
এদিকে কলেজে কোনো প্রকার আয়োজন না হওয়া নিয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ ড. ছদরুদ্দীন আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলত আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো প্রকার নোটিশ পাইনি, যার কারণে কোনো প্রকার আয়োজন করা হয়নি। শুধু আমাদের কলেজ নয়, সাতটি কলেজের কোথাও এই আয়োজন হয়নি।