ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে জনতা ব্যাংকের প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম-২০২৫ দ্রুত অনুমোদনের দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নিয়মিত পদোন্নতির পাশাপাশি সুপারনিউমারারি পদোন্নতি ব্যবস্থাও চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে, যা ব্যাংকের কার্যক্রম ও সুশাসনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আশিকুর রহমান, জহির রায়হান, মোহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ, সদস্য সচিব মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাজের পরিধি ও দায়িত্ব বাড়লেও সেই অনুপাতে পদসংখ্যা পুনর্নির্ধারণ কিংবা পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে অনেক যোগ্য কর্মকর্তা বছরের পর বছর একই পদে থেকে যাচ্ছেন।
সংগঠনের নেতারা জানান, বর্তমান সংকটের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, অর্গানোগ্রামের বাইরে দেওয়া সুপারনিউমারারি পদোন্নতি নিয়ে নীতিগত জটিলতার কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের নিয়মিত পদোন্নতি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ায় প্রয়োজনীয় শূন্য পদ সৃষ্টি হয়নি, ফলে যোগ্য কর্মকর্তারাও পদোন্নতির সুযোগ পাচ্ছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন বলেন, “সুপারনিউমারারি পদোন্নতি এবং নিয়মিত পদোন্নতি দুটি পৃথক বিষয়। একটি চালু রাখতে গিয়ে অন্যটি বন্ধ রাখা যৌক্তিক নয়।” তিনি দ্রুত অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের মাধ্যমে এ জটিলতার স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানান।
মোতাহার হোসেন বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অনেকাংশে তার মানবসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য মূল্যায়ন ও সময়মতো পদোন্নতি নিশ্চিত না হলে কর্মস্পৃহা কমে যায়, যা শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ একটি নীতিগত পরামর্শধর্মী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।” দেশের আর্থিক খাতকে আরো কার্যকর ও শক্তিশালী করতে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত নতুন সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন এবং পদোন্নতির প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান জানান তিনি।