জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বহিরাগত এক শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ক্যাম্পাসের কতিপয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. তোফায়েল। তিনি ২০২৫-২৬ সেশনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে (ঢাকেবি) চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়– গত মঙ্গলবার (২৮শে জুলাই) ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী ভুয়া পরিচয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে দেখায় কিছু জাবি শিক্ষার্থী তাকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ফোন চেক করে। জিজ্ঞাসাবাদে কোনো সদুত্তর না পেয়ে এবং ফোনে অপ্রীতিকর কিছু বিষয় পেয়ে ১০-১২ জন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করে।
এছাড়া, সারারাত তাকে নিয়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্থানে ঘুরায় বলেও জানা যায়। অতঃপর সকাল হলে তার পকেটের ৩০০ টাকায় সবাই নাস্তা করে। নাস্তা শেষে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রদলের সভাপতি ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী হামিদুল্লাহ সালমান তাকে নানাভাবে জেরা করে ভিডিও স্টেটমেন্ট নিয়ে নিরাপত্তা অফিসে দিয়ে আসেন।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী তোফায়েল বলেন– “ঢাবিতে আমার সাথে শুভ (প্রাণিবিদ্যা – ৫৪ ব্যাচ)-এর সাথে পরিচয় হয়। তার পরিচয়ে আমি জাবিতে ঘুরতে আসি। কিন্তু শুভ ও তার বন্ধুরা মিলে আমাকে রাতভর নানাভাবে হয়রানি ও মারধর করে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জঙ্গলে আমাকে ঘুরায়। আমার হাতে তামাকের প্যাকেট ধরিয়ে ভিডিও নেয় এবং বলে যে, আমি তামাক নিয়ে ধরা পড়েছি। সকালে আমার থেকে ৩০০ টাকা নিয়ে সবাই মিলে নাস্তা করে। তারপর এক ভাই (হামিদুল্লাহ সালমান) আমাকে জোর করে শিবির আখ্যা দিয়ে ভিডিও করে। অথচ আমি আমার গ্রামে থাকতে নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন ৩ মাস শিবিরের সাথে যুক্ত ছিলাম; কোনো কর্মী, সাথি বা সদস্য হইনি। আমার সাথে হওয়া এই অন্যায়ের উপযুক্ত শাস্তি চাই।”
রাতভর নির্যাতন ও অর্থ আত্মসাতের সত্যতা জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভ বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে সদুত্তর দিতে না পারায় আমরা সবাই তাকে মেরেছি। হাতে তামাক দিয়ে ভিডিও করার ঘটনা মিথ্যা। এমনকিছু হয়নি। তার ফোনে মেয়েদের নিয়ে অপ্রীতিকর বিষয় পেয়েছি। আর আমাদের কাছে টাকা না থাকায় তার কাছ থেকে নাস্তার বিল দিয়েছিলাম।”
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে নিরাপত্তা অফিসে রাতভর নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে ভুক্তভোগী ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।