• বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন

বাকি খেয়ে টাকা না দেয়ার অভিযোগ জাবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে

জাবি প্রতিনিধি / ৭ Time View
Update : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের ক্যান্টিন ও বিভিন্ন দোকান থেকে খাবার খেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিষয়টি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম রুদ্র রয় প্রহর। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম আবর্তনের (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী।

সিসিটিভি ফুটেজ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত রুদ্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দোকানে খাবার খেয়ে টাকা না দিয়ে কৌশলে কেটে পড়তেন। পরবর্তীতে তাকে চিহ্নিত করা হলে তিনি একাধিক স্থানে এভাবে টাকা না দেয়ার কথা স্বীকার করেন। আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, তিনি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল ক্যান্টিনে ৪,০০০ টাকা, হলের দোকানে ৮০০ টাকা, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় ৫০০ টাকা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের তিনটি দোকানে ৬০০ টাকা এবং গেরুয়ার ঢালের একটি দোকানে ৪৫০ টাকা বাঁকি খেয়েছেন বলে লিখিত দেন। এ ঘটনায় পরবর্তীতে তিনি সব পাওনা পরিশোধ করবেন মর্মে লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তাজউদ্দীন হলের দোকান মালিক তারেক বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষার্থী দোকানে এসে খাবার খাওয়ার পর প্রায়শই টাকা না দিয়ে চলে যেতেন। অনেক সময় অনলাইনে পেমেন্ট করার কথা বললেও বাস্তবে কোনো টাকা পাঠাতেন না। কিছুদিন বিষয়টিতে সন্দেহ হলে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হই।

হল ক্যান্টিন মালিক আতাউর রহমান জানান, “ক্যান্টিনে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ খাওয়া-দাওয়া করে, তাই সবাইকে আলাদাভাবে নজর রাখা সম্ভব হয় না। তবে এই ছেলেকে আমি গত দুই-তিন দিন খেয়াল করেছি, সে খাবার খেয়ে বেসিনে হাত ধোওয়ার নাম করে সটকে পড়ে এবং পেছনের লিফট ব্যবহার করে চলে যান।

ঘটনাটি জানাজানি হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, দেশের একটি স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এই ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে বিচার হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. খো. লুৎফুল এলাহী বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিভিন্ন দোকানে খাবার খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে স্বীকার করেছে এবং লিখিত মুচলেকা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও ক্যান্টিন মালিকরা লিখিত অভিযোগ জমা দিলে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অপকর্মের প্রভাব সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপরও পড়ে। দোকানদাররা বারবার লোকসানের মুখে পড়লে খাবারের মান কমিয়ে দেয়, যার চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category