আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা ও অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে বেটিং বা জুয়া পরিচালনা করতো একটি চক্র। অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ হতে নিজেদের কমিশন কর্তনের পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে এসব টাকা পাচার করা হতো। এমন একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বাবলু মিয়া, মো. মনির হোসেন, নূর সাফায়েত ইপ্তি ও শামীম আল মামুন।
সিআইডি জানায়, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তরা অনলাইন জুয়া সাইটে নিজ নামীয় এজেন্ট সিম সরবরাহ করতো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।
এদিকে, মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিং করাকালীন সিপিসি দেখতে পায় যে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং (জুয়া) ওয়েবসাইটের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা ও অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছে। বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ পূর্বক সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন (ডিএমপি) থানায় মামলা দায়ের করে।
মামলা রুজুর পর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের সহায়তায় জানতে পারে যে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে সেগুলো বেটিং সাইটে ব্যবহার করে আসছিল।
জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ হতে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা তাদের কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচার করে আসছিল মর্মেও তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।