রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের পদাবনতি ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা।
আজ বারোটায় (৩০ আগস্ট) রোববার বেলা বারোটায় চারুকলা অনুষদের ভিতরে ছাপাচিত্র ডিসিপ্লিনের সামনে একটি অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।
এসময় শিক্ষার্থীরা ‘বিচার নামে প্রহসন, মানি না মানবো না’, ‘এক দফা এক দাবি, সুজন তুই কবে যাবি’, ‘অভিযোগ প্রমাণিত, শাস্তি কেন সীমিত’, ‘সুজনের দালালেরা, হুশিয়ার সাবধান’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদ রাফি সাদী বলেন, ২০২৪ সালের ৮ ই সেপ্টেম্বর তৎকালীন ভিসি ও প্রো-ভিসির কাছে অনিয়ম,অযোগ্যতা ও দুর্নীতির অভিযোগে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। ১৮ ই সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি তথ্য প্রমাণের ভিত্ততে তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছিলো। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৫ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফেসবুক পেইজে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্থলন পাওয়া গেছে বলে ঘোষণা দেয়। এখানে তারা নৈতিক স্থলন ঘোষণা দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই মাসের ১৩ তারিখ তাকে একটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তার পদ অবনমন করা হয়েছে।
একই বিভাগের শিক্ষার্থী আছিয়া খাতুন বলেন, ২ বছর আগে আমাদের বিভাগের একজন অযোগ্য শিক্ষক ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও শিক্ষার্থীদের হয়রানি বিরুদ্ধে আমরা দুইশ পৃষ্ঠার একটা অভিযোগপত্র জমা দেই। ২ বছর ধরে এই দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত সিন্ডিকেটে শাস্তি হিসেবে তাকে ৫ বছরের জন্য অব্যাহতি এবং পদাবনতি দিয়েছে।তার বিরুদ্ধে প্রশাসন যে শাস্তি দিয়েছে তা আমরা মানি না।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধানে কোনো শিক্ষকের নৈতিক স্খলন ঘটলে তাকে চাকরিচ্যুত করার বিধান রয়েছে। প্রথমিক তদন্তের প্রতিবেদনে সুজন সেনের আচরণকে নৈতিক স্খলন হিসেবে উল্লেখ করে তাকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু গত সিন্ডিকেটে তাকে চাকরিচ্যুত না করে ৫ বছরের জন্য অব্যাহতি এবং পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমরা প্রশাসনের কাছে তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের রূপরেখা চাচ্ছি। অন্যথায় আমরা আগামী ২৪ ঘন্টা পরে কঠোর থেকে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বললেন, এটা যেহেতু সিন্ডিকেটের বিষয়, সেখানে হয়তো তার বিষয়টি দেখতে পারেন। তবে আমরা বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করব। এছাড়া ক্লাস- পরিক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াটা দৃষ্টিকটু। তাদের যেকোনো দাবিতে তারা আন্দোলন করুক কিন্তু সেটা যেন ক্লাস- পরিক্ষা বর্জন না করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষক সুজন সেনের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে তৎকালীন উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা ও বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় সুজন সেনকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদাবনতি এবং পাঁচ বছরের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।