জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল সংসদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলের মধ্যে ১ম হল হিসেবে কমনরুমে পূর্ণাঙ্গ জিমনেসিয়াম ও খেলার মাঠ উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়াও, মেডিকেল কর্নার স্থাপন, বিভিন্ন ধরনের ফুল ও ফলদ বৃক্ষরোপণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে নতুন ১৬টি টেকসই ডাস্টবিন ক্রয় করে সরবরাহ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের মেয়াদের শেষদিনে উপরিউক্ত ৫ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে জাবির শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল সংসদ।
হল সংসদ সূত্রে জানা গেছে– শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় হলের কমনরুমে একটি পূর্ণাঙ্গ জিমনেসিয়াম উদ্বোধন করা হয়। পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ উদ্বোধনসহ অন্যান্য কর্মসূচিও বাস্তবায়িত হয়। এ সময় হল সংসদের সভাপতি ও প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহী, সহ-সভাপতি (ভিপি) মোহা. সিফাতুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাহমুদুল হাসান শাকিব, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) তারেক আহমেদ, কমনরুম সম্পাদক মো আরিফ হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক মনোয়ার হোসেন-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জিমনেসিয়াম স্থাপন সম্পর্কে কমনরুম সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন বলেন, “কমনরুম সম্পাদক হিসেবে বিজয়লাভের পর থেকেই একটি পূর্ণাঙ্গ জিমনেসিয়াম চালুর ব্যাপার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি কিন্তু পর্যাপ্ত বাজেট না পাওয়ায় এতদিন বাস্তবায়ন করা যায়নি। নতুন ক্রয়কৃত ১২টি ও পূর্বের ৪টি ইকুইপমেন্টে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে এটি বাস্তবায়িত হয়েছে। হলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে নিজেদের সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে পারেন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। আশা করি– ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী জিমনেসিয়ামের সুযোগ-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের চেষ্টা চলমান থাকবে।”
সভাপতি (ভিপি) মোহা. সিফাতুল্লাহ বলেন, “হল সংসদ চালুর পর থেকে একটি মানসম্মত জিমনেসিয়াম চালু করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। অবশেষে, হল সংসদের সভাপতি ও প্রাধ্যক্ষ স্যারের ফান্ড প্রদানের মাধ্যমে এটি আজকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য হল সংসদের পক্ষ থেকে স্যারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এছাড়াও, আজকে হলের খেলার মাঠের কাজ উদ্বোধন, মেডিকেল কর্নার স্থাপন, বৃক্ষরোপণ ও ডাস্টবিন সরবরাহ করা হয়েছে। আশা করি– এতে হলের সকল শিক্ষার্থী উপকৃত হবেন।”
হল সংসদের সভাপতি ও প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহী বলেন, “শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। হল সংসদ চালু হওয়ার পর থেকে এটি স্থাপনের দাবি জানিয়ে এসেছিল কিন্তু পর্যাপ্ত বাজেট না পাওয়ায় তখন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। অবশেষে, হল ফান্ড থেকে জরুরিভিত্তিতে জিমনেসিয়ামটি চালু করা হয়েছে। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ায় হলের শিক্ষার্থীরা নিজেদের শরীরচর্চার জন্য আরও ভালো সুযোগ পাবেন। শিক্ষার্থীরা যেন নিয়ম মেনে ও যথাযথভাবে ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ তৈরির জন্য ইতোমধ্যেই ৬ লাখ টাকার বাজেট পাস হয়েছে। আজকে আমরা হল সংসদ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে প্রাথমিকভাবে মাঠের কাজ উদ্বোধন করেছি। এছাড়াও জরুরি সেবা প্রাপ্তির জন্য মেডিকেল কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। বৃক্ষরোপণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ডাস্টবিন কেনা হয়েছে। সর্বোপরি, এগুলো শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজে আসবে বলে প্রত্যাশা করছি। গত একবছরে হল সংসদ অত্যন্ত আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজে করে গেছে; যা শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ সাধিত হয়েছে। এজন্য হল সংসদ নেতৃবৃন্দকে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানাই।”
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে ১০ম জাকসু ও হল সংসদ শপথগ্রহণ করেছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তাদের শেষ কর্মদিবস ছিল।