দৃশ্যমান সরকারি প্রভাব, নাম প্রস্তাবে প্রার্থীদের যোগ্যতার মাপকাঠি নিয়ে স্বচ্ছতার অভাবসহ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও যোগ্যতা সম্পন্ন নির্বাচন কমিশন গঠনের ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করেন “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-এর অভিজ্ঞতা ও সংস্কার প্রস্তাবনা” শীর্ষক সেমিনারের বক্তারা। তারা বলেন, বিভিন্ন সরকাররি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবিরাই রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সংসদীয় আসনের বড় দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়। ফলে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনে পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা সব থেকে বড় বাধা বলে উল্লেখ করেন আলোচকরা।
প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্মেলন কক্ষে “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-এর অভিজ্ঞতা ও সংস্কার প্রস্তাবনা” শীর্ষক এক সেমিনারে। অনুষ্ঠানের আয়োজক ইনিশিয়েটিভ ফর দ্য প্রমোশন অব লিবারেল ডেমোক্রেসি (আইপিএলডি)। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আজিম গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক সচিব এহসান শামীম। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইপিএলডির নির্বাহী সদস্য তাহামিন বানু, ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, ইকতেদার আহমেদ প্রমুখ।
প্রবন্ধ উপস্থাপক এহসান শামীম বলেন, একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও যোগ্যতা সম্পন্ন নির্বাচন কমিশন গঠনে বর্তমান পদ্ধতির সীমাবদ্ধতার ব্যাপারে সমালোচনা আছে। যেমন সার্চ কমিটি গঠনে দৃশ্যমান সরকারি প্রভাব, নাম প্রস্তাবে প্রার্থীদের যোগ্যতা কী মাপকাঠিতে বিবেচনা করা হয় সে বিষয়ে স্বচ্ছতার অভাব এবং কমিটিতে বেসরকারি প্রতিনিধিত্বের অনুপস্থিতি ইত্যাদি।
তিনি আরও বলেন, কার্যকর একটি জাতীয় সংসদ পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে প্রতিদ্বন্দিতাকারী প্রার্থীদের সম্পদ বৈধভাবে অর্জিত কিনা বা প্রার্থী ঋণ খেলাপি কিনা এবং প্রার্থী দ্বৈত নাগরিক কিনা এ বিষয় সমূহ সঠিকভাবে নিরূপণ করা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আন্তরিক প্রচেষ্টা, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলির সদিচ্ছা এবং সেনাবাহিনীর সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের সুফল হিসেবে এবারকার নির্বাচন পূর্ব সহিংসতা পূর্বের নির্বাচন সমূহের তুলনায় বহুলাংশে কমেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম বলেন, আইপিএলডি মনে করে সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত না হলে দেশে গণতন্ত্র সঠিক পতে থাকবেনা।