• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ন

সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা প্রতিহত করতে সৌদি আরবকে সীমিত পরিসরে সামরিক সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

২১ সেপ্টেম্বর (সোমবার) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বার্নহাম জানান, তিনি সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানগুলোতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) আকাশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে সামরিক সহায়তার একটি অনুরোধ পেয়েছিলাম। এরপর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী গত রাতে আমি প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সেই অনুরোধে সম্মতি দিয়েছি।”

তিনি আরো জানান, এই চুক্তিটি একটি ‘নির্দিষ্ট সময়ের জন্য’ কার্যকর থাকবে ও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথি বিদ্রোহী এবং ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের মধ্যকার সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করায় যু্ক্তরাজ্যের কাছে এই সহায়তা চেয়েছিল সৌদি আরব।

হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে গত শনিবার রিয়াদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা আকাশে প্রতিহত করা হয়।

এছাড়া হুথিরা ইয়েমেনের ভেতরেও নিজেদের অবস্থান জোরদার করেছে। তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোচা এবং লোহিত সাগরের প্রধান দ্বীপগুলো দখল করে নিয়েছে, যার ফলে আল-মান্দেব প্রণালির ওপর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর তারা আরও ভালোভাবে নজরদারি চালাতে পারছে। উল্লেখ্য, স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ বাণিজ্যের পথ এই প্রণালি।

বার্নহাম বলেন, “আমরা ব্রিটেন এবং বৃহত্তর অঞ্চলের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য কাজ করছি। কারণ, সৌদি আরব হামলা শিকার হয়েছে এবং সামনে আরও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হতে পারে, তাই আমাদের (তেলের) এই বাণিজ্য পথগুলো সচল রাখতে হবে।

পিএ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় সহায়তা করার পরিবর্তে এই ব্রিটিশ মিশনটি কেবল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ থেকে সৌদি আকাশসীমা সুরক্ষায় নিয়োজিত বিমানের সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানান, এই নতুন সামরিক চুক্তিটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কার্যকর হবে এবং এতে একটি আরএএফ ভয়েজার বিমান ‘প্রতিরক্ষামূলক’ মিশনে নিয়োজিত সৌদি আরবের বিমানগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে ও সৌদি আরব কয়েক দশক ধরে ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র এবং লন্ডন সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হিসেবে পরিচিত।

এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান সংঘাতের সময়ও ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষ দিতে যুক্তরাজ্য সেখানে তাদের ‘স্কাই সেবার’ বিমান প্রতিরক্ষা মোতায়েন করেছিল।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category