লক্ষ্মীপুর পৌরশহরের চারটি জুয়েলারি দোকান থেকে গ্রাহককে দেখানোর কথা বলে প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে রণজিত পাল নামে এক ব্যবসায়ী উধাও হয়ে গেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘পাল শিল্পালয়’ খোলা রেখেই তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে যান।
অভিযুক্ত রণজিত পাল লক্ষ্মীপুর পৌর বাজারের স্বর্ণকার পট্টির পাল শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী। শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা রণজিত দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে লক্ষ্মীপুরে ব্যবসা করে আসছিলেন এবং শহরের শাঁখারীপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, স্বর্ণকার পট্টিতে এক ব্যবসায়ী অন্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গহনা এনে গ্রাহকদের দেখানো এবং বিক্রি করার একটি ভালো প্রচলন রয়েছে। দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও সুসম্পর্কের সুবাদে সোমবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে রণজিত পাল স্থানীয় চারটি দোকান থেকে গ্রাহককে দেখানোর কথা বলে প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণালংকার নেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি আর গহনাগুলো ফেরত দেননি। বিকেলের দিকে তার দোকান খোলা থাকলেও তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে শাঁখারীপাড়ার ভাড়া বাসায় গিয়ে জানা যায়, তিনি সপরিবারে পালিয়ে গেছেন।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত চার ব্যবসায়ী হলেন- তমা শিল্পালয়ের পলাশ কুরী, বণিক শিল্পালয়ের সাগর বণিক, পুনম শিল্পালয়ের ঝুটন কুরী এবং শিবানী শিল্পালয়ের অসীম কর। প্রতারণার শিকার হয়ে ব্যবসায়ীরা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি সমীর কর্মকার বলেন, ‘দীর্ঘদিনের পরিচিত একজন ব্যবসায়ী এভাবে অন্য চার ব্যবসায়ীর মূল্যবান স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তার বাসায় গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। আমরা বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত রণজিত পালের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ঘটনাটি আমাদের জানিয়েছেন। পুলিশ সুপারের কাছে তারা অভিযোগও দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে অভিযুক্ত কোথায় আছে, সে ব্যাপারে খোঁজ নেওয়ার জন্য। আমাদের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’