রাষ্ট্রের বিদ্যমান অন্যায়-অবিচারের কাঠামো ভেঙে নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিলো বলে মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিবি বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছিলো। ফলে, সংসদে সংবিধান সংস্কারের বৈধতা রয়েছে। বিএনপি যদি বিষয়টি অস্বীকার করে তাহলে তাদের সরকারের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের সাতমাথায় জুলাই চত্বরে দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, “এই গণভোট যদি বৈধ না হয়, জুলাই সনদ যদি বাস্তবায়ন না হয়, সংসদে দাঁড়িয়ে সংবিধান সংস্কারের যদি বৈধতা না থাকে, তাহলে জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী আর বিএনপি সরকারেরও কোনো বৈধতা থাকতে পারে না।”
তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টে বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তরুণরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল পরিবর্তনের প্রত্যাশায়। তাদের লক্ষ্য ছিল অত্যাচার, জুলুম, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির জন্ম দেওয়া রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন।”
দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে বিবেক ও ন্যায়বোধকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, “মানুষ যদি অন্যায় দেখেও শুধু দল বা ব্যক্তির পক্ষ নেয়, তাহলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।” ভোট দেওয়ার সময় সৎ ও ন্যায়ের পক্ষের নেতৃত্বকে বেছে নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই পদযাত্রার দাবিগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশে জ্বালানি সংকটের অবসান, ঘরে ঘরে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।”
সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, “প্রতিটি সীমান্ত হত্যা ও পুশইন দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। সরকার এসব বন্ধ করতে না পারলে তাদের নামের সঙ্গে থাকা ‘জাতীয়তাবাদ’ শব্দের সঙ্গেই প্রতারণা করা হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তরুণদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি না হলে কোনো সরকারই সফল হতে পারে না।” তিনি অভিযোগ করেন, অনেক রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্যে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেও আড়ালে মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। গ্রেপ্তার হওয়া মাদক কারবারিরাও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার এলাকায় ফিরে আসে।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে রাজনৈতিক প্রভাবের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ভূমি অফিস ও থানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব ও অনিয়ম বন্ধ না হলে দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।”
অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যদি কথা না বলি, এই দেশ কোনোদিন পরিবর্তন হবে না।”