মিলনায়তনের লবিতে সাজানো পুতুল৷ সেই পুতুলে ফুটে উঠেছে বিটিভির সেই বিখ্যাত পুতুল নাচের বাউল ও পারুল। আর সেসবের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন শিল্পানুরাগিরা৷ পারুল আর বাউল চরিত্রের সেই পাপেটগুলোতে ফুটে উঠেছে কিংবদন্তি শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের বর্ণাঢ্য সব সৃষ্টিকর্ম৷
লবিতে শিল্পীর সৃষ্টিকর্মগুলো নিয়ে মিলনায়তনে চলছিলো শিল্পীর জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা। সেই সঙ্গে শিল্পীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা। এমন আয়োজনেই সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে স্মরণ করেছে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষেরা।
মুস্তাফা মনোয়ার স্মরণ পর্ষদ এর আয়োজনে গতকাল শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন।
নৃত্য, সংগীত, আলোচনা ও বিটিভিতে প্রচারিত মুস্তাফা মনোয়ারের সৃষ্টিকর্ম দিয়ে সাজানো ছিলো বর্ণাঢ্য এই আয়োজন।
আফজাল হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে মুস্তাফা মনোয়ারের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন নাট্যজন তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী লাইসা আহমদ লিসা, ম. হামিদ, কেরামত মওলা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ক্যানভাসে রংতুলিতে শুধু দৃশ্যপটই তুলে ধরেননি মুস্তাফা মনোয়ার, পাপেটের অনিন্দ্য শৈলিতে এদেশের পুতুলনাচকে শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত করেছেন। তার হাত ধরেই এদেশে পুতুল নাচের বিকাশ ও প্রসার ঘটে। মুস্তাফা মনোয়ার আজীবন শিল্পের সাধনা করেও ছিলেন নিভৃতচারি মানুষ। তার মৃত্যুতে এদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবার নয়।
অনুষ্ঠানে মুস্তাফা মনোয়ারের স্ত্রী মেরি মনোয়ারকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করে নাট্য নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টর গিল্ড।