যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে ইরান। গোয়েন্দাসূত্রে প্রাপ্ত এই তথ্য সম্প্রতি ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে ইসরায়েল।
প্রথমদিকে এই সংবাদমাধ্যমের কাছে আসেনি, তবে গতকাল বৃহস্পতিবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর সম্মেলন শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন নিজের নতুন সরকারি উড়োজাহাজের পরিবর্তে পুরোনো উড়োজাহাজে ওঠেন, সে সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়। সে সময়েই ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্য প্রদানের ব্যাপারটি প্রকাশ্যে আসে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাদ্যম সিএনএনকে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যা করার সম্ভাব্য পরিকল্পনা সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের ধারাবাহিক প্রবাহ ওয়াশিংটন পর্যবেক্ষণ করে আসছে; কিন্তু ইসরায়েল থেকে আসা সতর্কতাটি চিল নতুন এবং এটি একটি সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র সম্পর্কিত।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রদান করা গোয়েন্দা তথ্যে নতুন ষড়যন্ত্রের আভাস মিলেছে।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ২০১৬ সালে। তার সেই মেয়াদের শেষ দিকে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছিলেন ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রভাবশালী কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। সে সময় এই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান।
ইসরায়েলের এই সতর্কবার্তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করেছিল এএফপি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এ ব্যাপারে নিজে মন্তব্য না করে ন্যাটো সম্মেলন থেকে ফেরার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছিলেন, সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্কের রাজাধানী আঙ্কারা থেকে ফেরার সময়ে এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ের সময় ট্রাম্প বলেন, “তারা (ইরান) যুক্তরাষ্ট্রের নেতা হিসেবে আমাকে হত্যা করতে চায়। আমি তাদের হিটলিস্টে আছি। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে তালিকাটি আমি পেয়েছি এবং দেখলাম, সেখানে সবার ওপরে আমার নাম লেখা।”
সূত্র : এএফপি, গালফ নিউজ