লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় মো. রিমন নামে এক স্কুলছাত্রকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। রিমন রামগতি উপজেলার চর মেহার আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ব্যবসা শাখার ছাত্র। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স ১৪ বছর ২ মাস।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় আসামি পক্ষের আইনজীবী আবদুর রব সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে মামলার এজাহারে রিমনের নাম উল্লেখ করা হয় বাচ্চু প্রকাশ রিপন এবং বয়স দেওয়া হয় ১৯ বছর। জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে নাম কিংবা বয়সের মিল দেখা যায়নি। এছাড়া আদালতে সোপর্দ করার সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান তার (রিমন) নাম সংশোধন করলেও বয়স দেখিয়েছে ১৩ বছর ১১ মাস ২৯ দিন।
আইনজীবী আবদুর রব সুমন বলেন, সকালে রামগতি থানা পুলিশ সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় রিমনকে আদালতে সোপর্দ করে। ছোট মানুষ, তার এখনো রাজনীতি করার বয়স হয়নি। এতে আমরা তার জামিনের জন্য মানবিক আবেদন করেছি। এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি হওয়ায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে সকালে রামগতি থানা পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে।
আইনজীবী আরও বলেন, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) হাজিরা আছে। এজন্য আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। পরে তাকে গাজীপুরে শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
গ্রেপ্তার রিমন উপজেলার চর রমিজ ইউনিয়নের চরমেহার গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তাকে রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে চরমেহার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ৩০ মে সকালে চর আলগী ইউনিয়নের চরনেয়ামত গ্রামের মধ্য পূর্ব আলেকজান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বহুমুখী দূর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রের নিচে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়। এসময় তারা ‘মুজিব তোমার স্মরণে, ভয় করি না মরণে, শেখা হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে, আমরা সবাই মুজিব সেনা, ভয় করি না বুলেট বোমা, শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক স্লোগানসহ জননিরাপত্তা বিপন্ন ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটাতে ঝটিকা মিছিল করে। তারা তাদের কার্যক্রম বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারের জন্য ভিডিও ধারণ করে। এ ঘটনায় ৪ জুন রামগতি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ময়নাল হোসেন বাদী হয়ে রিমনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রামগতি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় রিমনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বয়স কম না বেশি তা তদন্তের বিষয়৷ জন্ম নিবন্ধনে বয়স যা আছে তাই লিখে দিতে প্রতিবেদকে বলেন তিনি।