• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’র আত্মপ্রকাশ

ইউনাইটেড ডেস্ক / ৩ Time View
Update : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’। সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি। অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সংগঠনের মুখপাত্র ইকবাল হোসেন (সাম্য শাহ) এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ উল্লাহ মধু।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সর্দার আমিরুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশে কার্যকর বিরোধী দলের শূন্যতার কারণে আমাদের এই রাজনৈতিক উদ্যোগ। দেশে সরকারের অন্যায়, অনিয়ম, বিদ্যুতের দামের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন অতিষ্ঠ। এ বিষয়ে জনমত গঠন করাই এ সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য।” এ সময় তিনি মুহাম্মদ উল্লাহ মধুকে সম্পাদক ও ইকবাল হোসেনকে (সাম্য শাহ) মুখপাত্র করে ৩৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন।

বক্তব্য রাখেন— নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী জনশক্তি পার্টির আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ্ কায়সার, কবি মোহন রায়হান, সিনিয়র আইনজীবী মোহসীন রশিদ, সার্বভৌমত্ব আন্দোলনের প্রধান সংগঠক শামীম রেজা, জনজোট পার্টির সভাপতি মোজাম্মেল মিয়াজি, বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের সংগঠক মোশারফ হোসেন, শাহ আলম প্রমুখ।

জনরাষ্ট্র আন্দোলনের সংগঠকরা হলেন—
১. মোশাররফ হোসেন
২. ⁠এম এ আলিফ
৩. ⁠শাহ আলম
৪. আলিয়া ছোঁয়া
৫. মেহেদী হাসান বাবু
৬. ইমতিয়াজ হোসাইন লিটন
৭. ⁠সেলিম হোসেন
৮. ⁠আমান উল্ল্যাহ্ ফারাবী
৯. জহিরুল ইসলাম শাকিল
১০. ⁠নাঈম হামিদ পৃথু
১১. ⁠নাজমুস সাকিব
১২. ⁠শাওন রহমান
১৩. শফিকুর রহমান মোল্লা
১৪. ⁠তামিম আহম্মেদ তুরাগ
১৫. ⁠এইচ এম নাইমুল
১৬. ⁠জাহাঙ্গীর আলম সবুজ
১৭. আরিফুল ইসলাম
১৮. ⁠ইয়াসিন হাসান
১৯. ⁠কাইফা জামান
২০. ⁠সুমাইয়া নাসরিন আশা
২১. ইয়ামিন হাসান রন

সদস‍্যরা হলেন—
১. সর্দার আমিরুল ইসলাম
২. ⁠মারিয়া রিমা
৩. ⁠ব্যারিস্টার রিজভী
৪. ⁠ক্যাপ্টেন রেদওয়ান সিকদার
৫. সিদ্দিকুর রহমান
৬. সাব্বির আহাম্মদ
৭. ⁠অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম
৮. ⁠প্রাচ্য মোহাম্মদ
৯. ⁠শরীফ আকন্দ
১০. ⁠শাহিদুল ইসলাম চৌধুরী
১১. ⁠আহম্মেদ রন
১২. ⁠রবিউল ইসলাম রবি
১৩. ⁠মাহমুদ হাসান লাবলু
১৪. অ্যাডভোকেট প্রিয়াঙ্কা আখতার

বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের ঘোষণাপত্র

“প্রিয় দেশবাসী
বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের সালাম গ্রহণ করুন।

ইতিহাসের এক অনিবার্য মর্মর সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা আমাদের সুদৃঢ় রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার আনুষ্ঠানিক রুপরেখা ঘোষণা করছি। এই যাত্রা কোনো সাময়িক ক্ষমতার মোহ, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার নগ্নতা কিংবা প্রচলিত রাজনৈতিক বলয়ের অংশীদারত্বের কুটকৌশল নয়। এই ঘোষণা ইতিহাসের চরম বাস্তবতার স্পষ্টত দায় স্বীকার এবং জাতির কাছে আমাদের সহজ সরল সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

আমরা শ্রদ্ধার সাথে জুলাই গণঅভ্যূত্থান স্মরণ করছি। স্মরণ করছি এক নদী রক্তের স্রোতে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আত্মদানকারী আমার আপনার ভাই বোন এবং সন্তানহারা মায়ের অশ্রুজল। আমরা বিশ্বাস করি, ২০১৮ সনের কোটা সংষ্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ছিলো স্পষ্টতই চব্বিশ জুলাই গণঅভ্যূত্থানের টেকশই ভিত্তি। মোটা দাগে তরুণ সমাজের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং রাজপথের সম্মিলিত রাজনৈতিক প্রতিরোধই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক পটভূমি। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সময়ের দমন-পীড়ন দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর যুগপৎ লড়াই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে জুলাই অভ্যূত্থানের আবহ তৈরি করেছে।

প্রিয় দেশবাসী, নদী-বিধৌত বাংলাদেশের পলিমাটির চিরন্তন শক্তি জানান দেয় হাজার হাজার বছরের পৃষ্ঠাজুড়ে ঐতিহাসিক সংস্কৃতির সুড়োল শব্দ-বাক্যের বাংলা উচ্চারণে আমার-আপনার বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব। আমরা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ববাদে বিশ্বাস করি। বিপ্লব বিদ্রোহে আমাদের জনসাধারণগণ-কৃষকের ত্যাজি তাগড়া বাহু বলে শোষণের শৃঙ্খল মুক্তি জানান দেয় শতাব্দীর পর শতাব্দীর উজ্জ্বল ক্যালেন্ডার।

বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ববাদে একনিষ্ঠ আস্থা ঘোষণার মধ্যে দিয়ে আমাদের সংস্কৃতির বিশালতা, গভীরত্ববোধ ও ভাষা আর বর্ণমালার সৌহার্দ্যময় ঐতিহ্যকে রাষ্ট্রীয় গৌরবের মূল ভিত্তি বিবেচনা করে আমরা ধারন করি মহান মুক্তিযুদ্ধের কাক্ষিত আকাঙ্ক্ষাকে। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, এই মাটিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অধিকার আদায়ের লড়াই সংগ্রামে আমাদের অনুসরণীয় বীরদের বীরত্বগাথা এবং বীর শহীদদের প্রতিফোটা রক্তের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় ঐক্যের মূল চালিকাশক্তি।

সাম্প্রদায়িক চিন্তার বাইরে অসাম্প্রদায়িকতা সমাজ তথা রাষ্ট্র ধারনা লালন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, বর্ণ-গোত্র ও জাতিগত স্ব স্ব পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত অঙ্গীকারের মধ্যে দিয়ে নাগরিক নিরাপত্তার সাথে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকারের পূর্ণাঙ্গ চর্চা সমুন্নত রেখে স্বচ্ছ জবাবদিহিমুলক কল্যাণ রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতির দিকে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা গনতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে জনগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখি। এবং শোষণমুক্ত অর্থনীতির পাক পর্বে জনশক্তির টেকশই ভিত্তি তৈরির মাধ্যমে দক্ষ শ্রম ভান্ডার এবং উৎপাদনমুখি জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করনের মধ্যে দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার গণমুখি রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা বলি।

সুপ্রিয় ভাই বোন বন্ধু-
১৯৪৭ রাষ্ট্র গঠণের অসমাপ্ত অধ্যায়, ২০২৪’র রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যূত্থানের প্রেরণা এবং ১৯৭১’র সনের মহান মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত আকাঙ্ক্ষার রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার উপলব্ধি এখনো অধরা! একরোখা অন্ধ জাতীয়তাবাদ, উগ্র জাত্যভিমান বা ধর্মীয় হানাহানি অথবা সংস্কৃতির প্রতি বিদ্বেষ প্রসূত নয়- এই মাটির ঐতিহাসিক লড়াই সংগ্রাম। বাংলার মাটি বাংলার জল, সুফি সাধক বাউলের নিমগ্ন ধ্যান জ্ঞান দর্শন ইত্যাদির উর্বর সমন্বিত মানবিক রূপ স্বীকার করে বলতে দ্বিধা নেই- ক্রমাগত আগ্রাসন, অপমান অনাদর, শোষণ বঞ্চনায় সামাজিক সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত সশস্ত্র রুপান্তরের নাম মহান মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি ভূখণ্ড অর্জনের বা মানচিত্র পরিবর্তনের লড়াই নয়; এটা পরিষ্কার সামন্তবাদ, স্বৈরতন্ত্র, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন এবং তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি সামগ্রিক জনযুদ্ধ। মহান মুক্তিযুদ্ধই জাতিগতভাবে আমাদের সবচে বড় সুসংহত প্রেরণা।

প্রিয় সহযোদ্ধা, অবশ্যই ফ‍্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার পতন ও পলায়ন জুলাইয়ের বড় অর্জন। পাশাপাশি আরেকটি বড় অর্জন ছিল দেশের রাজনীতিবিমুখ জনগোষ্ঠীর রাজনীতির ব্যাপারে আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া।

বিভিন্ন বাস্তবতায় বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ রাজনীতিকে ঘৃণা করে বা ভয় পেয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকা বেছে নেয়। তারা বেশ গর্বের সাথে “I hate politics” বলতো। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আবহ তাদেরকে রাজনীতিতে আকৃষ্ট করে তুলে। তারা আশাবাদী হয়, আগ্রহী হয় রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হওয়ার।

তারা আশা করেছিল,বাংলাদেশের সম্মুখযাত্রার। সহিংস রাজনীতির অবসান, শিক্ষা-চিকিৎসা সহ নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, সরকারী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের ট্রান্সপারেন্সি ও জবাবদিহিতা ইত্যাদি ছিল তাদের প্রধান চাওতা। ভাষণবাজী নির্ভর রাজনীতির বিপরীতে তারা চেয়েছিল জনসম্পৃক্ত, জনকল্যাণমুখী রাজনীতি; যেখানে সাধারণ মানুষের প্রকৃত সমস্যা ও চাওয়া-পাওয়ার আলোচনা মূখ্য থাকবে।

কিন্তু আমাদের দূর্ভাগ্য হলো, জুলাই পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই জনগোষ্ঠীকে পুনরায় হতাশ করে। জুলাই অভ্যুত্থানের ফলে তারা দেশের রাজনীতিতে যে গুনগত পরিবর্তন আশা করেছিল, তার কিছুই তারা দেখতে পায়নি। তাদের আকাঙ্খার কথা শোনার জন্য নতুন পুরোনো কোন দলই প্রস্তুত ছিল না। হয়ে ফিরে গেছে, ফিরে যাচ্ছে বা কেউ কেউ নতুন একটি খুঁজছে।

আমরা সেই হতাশ জনগোষ্ঠীর প্ল্যাটফর্ম হতে চাই। আমরা তাদের রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণের দরজা হতে চাই।

আমরা বাংলাদেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের মাধ্যম হতে চাই।

আমরা কোনো ক্ষণস্থায়ী রাজনৈতিক মোর্চা নই। বরং এক দীর্ঘমেয়াদী ঐতিহাসিক লড়াইয়ের ঐতিহাসিক ইশতেহার। এই লড়াই ক্ষয়ের বিরুদ্ধে সৃষ্টির, অন্ধকারের বিরুদ্ধে প্রগতির এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাম্যের। বাংলার মাটি ও মানুষের অদম্য প্রাণশক্তিকে সঙ্গী করে আমরা এক নতুন ভোরের দিকে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণমুক্তির এই মহান রাজনৈতিক মিছিলে প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককে শামিল হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাই। আমাদের সম্মিলিত লড়াই-ই এনে দেবে বাংলাদেশের প্রকৃত মুক্তি, গড়ে তুলবে প্রকৃত গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন জিন্দাবাদ, জনগণের বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক॥”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category