আগামী ৩১ জুলাই (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকায় বসবাসরত সিলেটবাসীর ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন’-এর আসন্ন ২০২৬–২০২৭ সেশনের নির্বাচন। রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী করা প্রার্থীরা সিলেট অঞ্চলের নানা সমস্যা নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে দুই টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ‘কয়েস সামি-আজিজ-মুন্না-রিপন’ পরিষদ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত উইংয়ের এপিএস ও অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ড. মো: জিয়াউল ইসলাম মুন্না। এই প্রার্থী সিলেটের মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়, অবহেলিত অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন।
ড. মো: জিয়াউল ইসলাম মুন্না দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকা এবং পাঁচবার নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সিলেটের উন্নয়ন ও অধিকার আদায়ের সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের প্রত্যাশা করছেন।
তার মতে, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কেবল একটি অরাজনৈতিক- সামাজিক সংগঠন নয়; বরং এটি সিলেট অঞ্চলের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ে কার্যকর ‘প্রেসার গ্রুপ’ ও ‘বার্গেনিং এজেন্ট’ হিসেবে ভূমিকা রাখার সক্ষমতা বজায় রাখে। নির্বাচনে জালাবাদের মানুষের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনার মধ্যে সংগঠক মুন্না সিলেটের মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ, সংস্কৃতি ও সংগঠন সম্প্রসারণ, যোগাযোগ ও অবকাঠামো,শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও নদী রক্ষাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।
ড. মুন্না বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অবহেলার শিকার। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিলেটের ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ থাকায় সিলেট অঞ্চলের মন্ত্রি বর্গ, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যদের দিক নির্দেশনা ও সহযোগীতায় কাজগুলো সম্পন্ন করা সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।
সিলেটের প্রধান সমস্যা নিয়ে তার স্পষ্ট অবস্থান: ঢাকা–সিলেট ছয় লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা। সিলেট রুটে ডাবল রেললাইন নির্মাণ ও আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরকারের সাথে কাজ করা, সুরমা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ড্রেজিং এবং জলাবদ্ধতা নিরসন। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদেশমুখী তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর ইত্যাদি।
অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনায় যোগাযোগ ও অবকাঠামো: ঢাকা–সিলেট ছয় লেন মহাসড়কের দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ। ডাবল রেললাইন স্থাপন ও নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি। শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর প্রচেষ্টা।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: বিদেশগামী তরুণদের জন্য জাপানি, জার্মানসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। সিলেট অঞ্চলে উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ। মৌলভীবাজারে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ এবং সিলেটে টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি। শিক্ষিত বেকারদের জন্য ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, জব ফেয়ার, বিসিএস ও ব্যাংকিং প্রস্তুতি কর্মসূচি।
পরিবেশ ও নদী রক্ষা: সুরমা নদীসহ অন্যান্য নদ-নদীর নিয়মিত ড্রেজিং। জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ।
প্রবাসী কল্যাণ : যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীদের বিভিন্ন জটিলতা সমাধানে সহায়তা। বিমানবন্দরে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের হেল্প ডেস্ক আরও কার্যকর করা। প্রবাসীদের মরদেহ দেশে আনার ক্ষেত্রে আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা জোরদার করা।
সংস্কৃতি ও সংগঠন সম্প্রসারণ: পূর্বাচলে দ্বিতীয় জালালাবাদ ভবন নির্মাণ, বিদেশে অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক শাখা সম্প্রসারণ। সিলেটি সংস্কৃতি, নাগরিলিপি ও সাহিত্যচর্চার প্রসার। গুণীজনদের স্বর্ণপদক প্রদান এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য সুপারিশ, সংগঠনের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন।
ভোটারদের উদ্দেশে ড. মো: জিয়াউল ইসলাম মুন্না বলেন, “জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনকে একটি আরও কার্যকর, আধুনিক ও জনমুখী সংগঠনে পরিণত করতে চাই। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সিলেটবাসীর ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে চাই। সকলের দোয়া কামনা করছি।”
শিক্ষা ও কর্মজীবনে ড. মুন্না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিজ বিদ্যা বিষয়ে বিএসসি (অনার্স), এমএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টি থেকে ইন্টারমোডালিটি অ্যান্ড মার্কেটিং বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ সরকারের মনোনয়নে, জার্মান এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জাতিসংঘের সংস্থা আই এম ও ‘র বিশেষায়িত একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় “ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, সুইডেন থেকে পোর্ট ম্যানেজমেন্ট-এ এম.এস. ডিগ্রি এবং অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করেন। তিনি জার্মানির CDG ফেলোশিপ এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক স্কলারশিপ প্রাপ্ত।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট সদস্য, বিসিএস ভাইভা বোর্ডের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষজ্ঞ পরীক্ষক, জালালাবাদ শিক্ষা ট্রাস্টের সদস্য, অফিসার্স ক্লাব ঢাকার ৩ বারের নির্বাচিত নির্বাহী সদস্য এবং জালালাবাদ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি, রোটারি ক্লাব ঢাকা ফোর্টের ডিরেক্টর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসাসিয়েশনের আজীবন সদস্যসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক ও নেতৃত্বস্থানীয় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কর্মজীবনের প্রসাশনিক দক্ষতার অংশ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পার্সোনাল উইং এ দীর্ঘ পাঁচ বছর কাজ করার সুবাদে তার দীর্ঘ প্রশাসনিক ও বার্গেনিং সক্ষমতা রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা, ২৭ টি বিসিএস ক্যাডার সার্ভিস কর্মকর্তাদের ভোটে নির্বাচিত “পার্লামেন্ট অব দা বুরোক্র্যাটস”খ্যাত অফিসার্স ক্লাব ঢাকার তিনবারের নির্বাচিত কার্যকরী কমিটির সদস্য থাকায় সরকারের আমলাতন্ত্রে যে কোন পর্যায়ে ও নিতি নির্ধারণী লেভেলে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
এছাড়া সরকারি চাকরির সুবাদে ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইটালি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, স্পেন, অস্ট্রিয়া, মালটা, সৌদি আরব, কুয়েত ও ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন।