আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরো সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করতে অস্থায়ী ভোটকেন্দ্রের ব্যবহার কমিয়ে স্থায়ী অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দিতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেখানে সম্ভব সেখানে স্কুল, কলেজসহ স্থায়ী ভবনেই ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি করে ভোটকেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্থায়ী ভোটকেন্দ্র ব্যবহারের ফলে ভোটগ্রহণের পরিবেশ আরো সুশৃঙ্খল হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সিসিটিভি সুবিধা কাজে লাগানো যাবে, পাশাপাশি অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের অতিরিক্ত ব্যয়ও কমবে। এ কারণে মাঠ প্রশাসনকে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের সময় স্থায়ী ভবনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, সাধারণভাবে দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ৬০০ জন পুরুষ ভোটার এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ রাখার বিধান রয়েছে। প্রয়োজন হলে একটি ভোটকক্ষে একাধিক গোপন কক্ষও রাখা যাবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত একটি ভোটকেন্দ্র থাকতে হবে। তবে, ভোটার সংখ্যা ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় একই ওয়ার্ডে একাধিক কেন্দ্রও স্থাপন করা যেতে পারে। ভোটারদের যাতায়াত সহজ করা, কেন্দ্রগুলোর মধ্যে যৌক্তিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং কোনো ভোটারকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দূরের কেন্দ্রে যেতে না হয় এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্র নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ভোটকেন্দ্র নির্বাচন করতে গিয়ে অবকাঠামোগত সক্ষমতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধা এবং অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। যেসব কেন্দ্রে আগে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে কিংবা কোনো প্রার্থীর প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে, সেসব স্থাপনাকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
যদি আগে ব্যবহৃত কোনো ভোটকেন্দ্র অনুপযোগী হয়ে পড়ে, পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকে বা যোগাযোগে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে নিকটবর্তী উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অন্য স্থায়ী স্থাপনাকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মতামতও নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ভোটকেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অতীতে কোনো কোনো ইউনিয়নে দুই বা তিনটি কেন্দ্র থাকলেও এবার প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য আলাদা কেন্দ্র নির্ধারণের উদ্যোগ রয়েছে। ওয়ার্ড ছোট হলেও কেন্দ্রের সংখ্যা কমানো হবে না।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কমিশন অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে বন্যাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে ভোটের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।”
ইসির নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দাবি-আপত্তি গ্রহণ, ২৩ আগস্টের মধ্যে সেগুলোর নিষ্পত্তি এবং ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। তফসিল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকার হার্ড কপি ও সফট কপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।