বিশ্বকাপ ফাইনালের ৯০ মিনিটেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। তবে স্কোরলাইন যতটা সমতার কথা বলছে, মাঠের খেলায় তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে চাপে রেখে একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়েছে স্পেন। শেষ পর্যন্ত সেই দাপটেরই পুরস্কার মিলেছে অতিরিক্ত সময়ে। ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশে স্পেনকে ১–০ গোলে এগিয়ে দেন ফেরান তোরেস।
নির্ধারিত সময়জুড়ে আর্জেন্টিনা ছিল একেবারেই বিবর্ণ। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি শটও নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। শুধু তাই নয়, প্রথম ৪৫ মিনিটে স্পেনের পেনাল্টি বক্সেও একবার বল স্পর্শ করতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯০ সালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফ্রান্সের ক্ষেত্রে।
প্রথমার্ধে দুই দল মিলিয়ে নেওয়া মাত্র তিনটি শটও গড়েছে আরেকটি রেকর্ড। ১৯৬৬ সালের পর কোনো বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে এত কম শট দেখা যায়নি।
বিরতির পরও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। ৬২ মিনিটে একসঙ্গে ফেরান তোরেস ও পেদ্রিকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনেন স্পেন কোচ। এর কিছুক্ষণ পরই ইয়ামালের দারুণ ক্রস থেকে তোরেসের শক্তিশালী হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। গোল না পেলেও স্পেনের চাপ তখন আরও বাড়ছিল।
অন্যদিকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করতে একের পর এক পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। নিকো গঞ্জালেজের জায়গায় লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং পরে গঞ্জালো মন্তিয়েলের বদলে নাহুয়েল মলিনাকে নামানো হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর ফিরে পায়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। উল্টো পারেদেস রদ্রিকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন।
নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে আরও বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। একই ঘটনায় বেঞ্চ থেকে প্রতিবাদ করায় হলুদ কার্ড দেখেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরোও।