প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মৎস্যভান্ডার খ্যাত সুন্দরবনে অবৈধভাবে আহরণ থেমে নেই। বর্তমানে চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে বন বিভাগ তিন মাসের জন্য আহর নষিদ্ধ করেছে। তবে প্রজননের জন্য গভীর সমূদ্র থেকে জলাশয়ের কাছাকছি আসা কাঁকড়াসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী জন্য চোরা কারবিরা পাতা ফাঁদে আকটা পড়া ১৭০ কেজি কাঁকড়া জব্দ করেছে বন বিভাগ।
শনিবার ভোর রাতে কোবাদক স্টেশনের কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে বাটলু নদী, আড়পাঙ্গাশিয়া নদী ও আশপাশের বিভিন্ন খালে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় কাঁকড়া ছাড়াও চারটি ডিঙি নৌকা এবং কাঁকড়া ধরার বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ১৭০ কেজি কাঁকড়া, চারটি ডিঙি নৌকা এবং ৯৫ পিস নিষিদ্ধ ‘আটন’সহ কাঁকড়া ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধভাবে কাঁকড়া আহরণে জড়িত ব্যক্তিরা গহীন বনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ এবং সব ধরনের পাস-পারমিট তিন মাসের জন্য বন্ধ রয়েছে। এ সময়ে বন ও নদ-নদীর পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এক শ্রেণির অসাধু জেলে ও বনজীবী অবৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দ করা কাঁকড়াগুলো আদালতের অনুমতিক্রমে নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রবেশ নিষিদ্ধ সময়ে সুন্দরবনে অবৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, বিষ প্রয়োগ এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।