টেকনাফে নাফ নদীর তীর রক্ষায় সীমান্ত সুরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুরে টেকনাফে নাফ নদীর তীরবর্তী বাঁধ ও পুনর্বাসন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা বেড়িবাঁধ প্রকল্পটি এমনভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে টহল জোরদার করতে পারেন। পাশাপাশি সীমান্ত সড়কটি চোরাচালান প্রতিরোধ ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, টেকনাফের মানুষ এখনো এ প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাননি। প্রকল্পের কাঠামো ও সমীক্ষা সঠিক না হওয়ায় দীর্ঘ সময়েও কাজ শেষ হয়নি।
মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের স্বার্থ ও জনস্বার্থকে সামনে রেখে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী খননসহ জনগণের প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের কাজ নতুনভাবে শুরু করা হবে। এ জন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে। কারিগরি সমীক্ষা ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেই পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।
স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে, নাকি সেতু—তা স্থানীয় মানুষের মতামত ও সুবিধা বিবেচনা করে নতুন করে নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই ঢাকার বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল এলাকায় এসে পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
মঙ্গলবার উখিয়া-টেকনাফের নাফ নদীসংলগ্ন পোল্ডার ৬৭/এ, ৬৭/বি ও ৬৮-এর পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ হলরুমে সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
এর আগে ২০১৭ সালে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সরকারি হিসাবে বর্তমানে প্রকল্পটির অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো, খাল পুনঃখনন, সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ রয়েছে। তবে প্রায় এক দশকেও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক রুহুল আমিন, স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।