ভেটিভারভিত্তিক জৈব প্রকৌশল প্রযুক্তির প্রসার এবং গবেষণার ফলকে বাস্তব প্রয়োগে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ‘স্ট্যান্ডার্ড স্পেসিফিকেশন ফর স্লোপ স্ট্যাবিলাইজেশন ইউজিং ভেটিভার গ্রাস’ এবং ‘ভেটিভারভিত্তিক বায়োইঞ্জিনিয়ারিং ফর স্লোপ স্ট্যাবিলাইজেশন: অ্যা প্র্যাকটিক্যাল গাইডলাইন ফর বাংলাদেশ’ নামে দুইটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বুয়েটের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (রাইজ)-এর সেমিনার কক্ষে ‘একাডেমিয়া-শিল্প সহযোগিতা ও বই প্রকাশনা’
অনুষ্ঠানের বই দুইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সামুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও রাইজের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষাঙ্গন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী।
স্বাগত বক্তব্য দেন রাইজের পরিচালক ও বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গবেষণাকে বাস্তব প্রকৌশল সমাধানে রূপ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা জরুরি।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলামের রচিত ‘স্ট্যান্ডার্ড স্পেসিফিকেশন ফর স্লোপ স্ট্যাবিলাইজেশন ইউজিং ভেটিভার গ্রাস’ এবং ‘ভেটিভারভিত্তিক বায়োইঞ্জিনিয়ারিং ফর স্লোপ স্ট্যাবিলাইজেশন: অ্যা প্র্যাকটিক্যাল গাইডলাইন ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রথম বইটিতে ভেটিভার প্রযুক্তির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, প্রকৌশল নীতি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি নির্দেশিকা তুলে ধরা হয়েছে।
দ্বিতীয় বইটি বাংলাদেশের ভৌগোলিক, জলবায়ুগত ও প্রকৌশলগত বাস্তবতা বিবেচনায় প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে স্থানীয় নির্মাণ পদ্ধতি, বাস্তবায়ন কৌশল, নকশার উদাহরণ এবং মাঠপর্যায়ে অনুসরণযোগ্য দিকনির্দেশনা স্থান পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুটি বই একসঙ্গে ভেটিভারভিত্তিক ঢাল স্থিতিশীলকরণ ব্যবস্থার পরিকল্পনা, নকশা, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করবে। সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, প্রকৌশলী, গবেষক, নীতিনির্ধারক, পরামর্শক, ঠিকাদার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এগুলো কার্যকর তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দীর্ঘদিনের গবেষণা, মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সরকারি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যৌথ কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকাশনা দুটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
এগুলোর মাধ্যমে দেশের সড়কের ঢাল, নদীতীর, বাঁধ, পাহাড়ি এলাকা এবং ক্ষয়প্রবণ অঞ্চলে টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে ভেটিভার প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সহজ হবে।