বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের বুধবারের (২৯ জুলাই) সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওয়ানডে সংস্করণে অধিনায়ক পরিবর্তন করার পাশাপাশি ক্রিকেটের অবকাঠামো উন্নয়ন, কোচ নিয়োগ, জাতীয় দলের পরিকল্পনা এবং মেডিকেল বিভাগকে আরও কার্যকর করার মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বিসিবির বুধবারের সভায় এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বোর্ড।
সভার সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত ছিল ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন। মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় লিটন কুমার দাসকে অধিনায়ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাওহীদ হৃদয়কে করা হয়েছে সহ-অধিনায়ক। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বাইরেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিয়েছে নতুন বোর্ড।
দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পূর্বাচলে একটি ক্রিকেট এক্সিলেন্স সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। পাশাপাশি পূর্বাচল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে সরকারি অর্থায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করবে বোর্ড।
জাতীয় দলের কার্যক্রমে আরও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও নতুন নির্দেশনা এসেছে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টকে প্রতি ৬ মাস অন্তর নিজেদের পরিকল্পনা ও অগ্রগতির প্রতিবেদন পরিচালনা পর্ষদের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন আরও সুসংগঠিত হবে বলে মনে করছে বোর্ড।
ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিসিবি। জেলা পর্যায়ের কোচ নিয়োগে কোনো ধরনের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যোগ্যতা ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই নিয়োগ সম্পন্ন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
সম্প্রতি সময়ে ক্রিকেটারদের অতিমাত্রার চোটপ্রবণতা বিসিবির মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষভাবে ওয়ার্কলোড ম্যানেজম্যান্ট করার পরও পেসাররা চোটে পড়ায় বিসিবির কাঠগাড়য় এখন মেডিকেল টিম। ক্রিকেটারদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে মেডিকেল বিভাগ শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কান মারিও ভিল্লাওয়ারায়ানকে বিসিবির মেডিকেল ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বোর্ড সভা শেষে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ভারতের বিপক্ষে স্থগিত হয়ে যাওয়া সীমিত ওভারের সিরিজ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সিরিজটি আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং ইতিবাচক সমাধানের প্রত্যাশা করছে বিসিবি।