• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
জায়নবাদী অধিকারকর্মী দাবি

মিসরের ক্ষমতা যাচ্ছে মুসলিম ব্রাদারহুডের কাছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৩৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

আগামী ১৫ বছরের মধ্যে মিসরের মঙ্গে ইসরাইল যুদ্ধে জাড়াবে বলে দেশটির শীর্ষস্থানীয় জায়নবাদী অধিকারকর্মী দাবি করেন। তিনি জানান, মিসর ও তুরস্ক দীর্ঘ মেয়াদে ইসরায়েল এবং পশ্চিমা বিশ্বের জন্য বড় হুমকি। কারণ, ‘শেষ পর্যন্ত মুসলিম ব্রাদারহুডই মিসরের ক্ষমতা দখল করবে।’

জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত ‘জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেট (জেএনএস) ইন্টারন্যাশনাল পলিসি সামিট’–এ এই মন্তব্য করেন আমিয়াদ কোহেন নামের এ অধিকারকর্মী। ইরান ও দেশটির কথিত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ (অ্যাকসিস অব রেজিস্ট্যান্স)-এর সঙ্গে সংঘাতের পর ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আলোচনাকালে কোহেন এ মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, ইসরায়েলের নজর এখন ‘শিয়া শক্তি’র দিক থেকে সরিয়ে ‘সুন্নি’ রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে দেওয়া উচিত। তিনি ইসরায়েলের জাতীয়তাবাদী শিবিরের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং হারুত সেন্টারের প্রধান নির্বাহী।

কোহেন বারবার মিসরের ইসলামপন্থী আন্দোলন মুসলিম ব্রাদারহুডকে একটি বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে চিত্রিত করেন। আন্দোলনটি ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নম্বর হুমকি’ দাবি করে তিনি সতর্ক করেন, তারা ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

মুসলিম রাজনীতিবিদ জোহরান মামদানির নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জয়ের প্রসঙ্গ টেনে কোহেন দাবি করেন, এ জয়ের ফলে নিউইয়র্ক ইতিমধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য উদ্ধৃত করে তুরস্ককেও একটি উদীয়মান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আমিয়াদ কোহেন। তাঁর দাবি, ‘তুরস্ক এখন আধিপত্য বিস্তার করছে।’ আঙ্কারার এ ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাবকে ইসরায়েলের জন্য একটি বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা উচিত বলেও তিনি যুক্তি দেন।

তাঁর মতে, ইসরায়েলের নজর এখন ‘শিয়া শক্তি’র দিক থেকে সরিয়ে ‘সুন্নি’ রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে দেওয়া উচিত।

কোহেনের এ বক্তব্য ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলের একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে ফুটিয়ে তোলে। সেখানে সুন্নি শক্তিগুলো, বিশেষ করে তুরস্ক ও মিসরকে, ভবিষ্যতের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তি মামলার দণ্ডিত আসামি জোনাথন পোলার্ডও গত মাসে সতর্ক করেন যে ইরান দুর্বল হওয়ার পর তুরস্ক ও মিসর ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ইসরায়েলকে শক্তিশালী হতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রকেও শক্তিশালী হতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, যুক্তরাষ্ট্র এখন দুর্বল।

পোলার্ড যুক্তি দেখান, ইসরায়েলের প্রধান কৌশলগত হুমকি হিসেবে তেহরানের জায়গা নিচ্ছে আঙ্কারা। তিনি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন।

একই আলোচনায় পোলার্ড জানান, কায়রো ও তেল আবিবের মধ্যে কয়েক দশকের পুরোনো শান্তিচুক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসর ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

কোহেন জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই এমন একটি ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, যেখানে দেশটির প্রধান চ্যালেঞ্জ শিয়াদের কাছ থেকে নয়, বরং সুন্নি রাজনৈতিক শক্তি ও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category