• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে ককোরোচ জনতা পার্টি

ইউনাইটেড ডেস্ক / ৪৫ Time View
Update : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন ককোরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকেরা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও শত শত আন্দোলনকারী রাতভর রাস্তা ও ফুটপাতে অবস্থান করেছেন। ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের মধ্যেই দ্বিতীয় দিনে আরও মানুষ তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। ভারতীয় তরুণসমাজের মনে জমে থাকা ক্ষোভকে ইন্টারনেটের দুনিয়া থেকে রাজপথে নামিয়ে আনতে চলতি মাসের শুরুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন।

ভারতে ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষের বয়সই ২৫ বছরের নিচে। দেশটিতে পড়াশোনা ও চাকরি পাওয়ার তীব্র চাপের মধ্যে থাকা তরুণসমাজ সাম্প্রতিক সময়ে বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষার ফলাফলে অসংগতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ।

অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন সিজেপি তরুণদের সেই জমে থাকা ক্ষোভ ও হতাশাকেই রাজপথে নিয়ে এসেছে। তাদের স্পষ্ট দাবি, ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।

অথচ কিছুদিন আগেও এই আন্দোলন ছিল শুধুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রল আর কৌতুকের বিষয়। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণ প্রজন্মকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করলে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই সময় অভিজিৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছিলেন, ‘সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে দল বাঁধে, তবে কেমন হবে?’ অভিজিতের পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই তিনি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে একটি অফিশিয়াল ওয়েবসাইট তৈরি করেন। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে এই সিজেপির অনুসারী ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা ১২ বছর ধরে ভারতের ক্ষমতায় থাকা বিজেপির অনুসারী সংখ্যার চেয়ে দ্বিগুণ।

৬ জুন নয়াদিল্লিতে দলের প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের পর থেকে দিপকে এই আন্দোলনকে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, নাগপুরসহ ভারতের বেশ কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে দিয়েছেন, যা শত শত সমর্থককে আকৃষ্ট করেছে।

গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে ঘেরা আন্দোলনস্থল থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করেছে। তারা সাময়িকভাবে আন্দোলনস্থলে পানি ও খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।মধ্যরাত পেরিয়ে যাওয়ার পর সেখানে অবস্থানরত তরুণদের কাউকে কাউকে হিপ-হপ গানের তালে তালে নাচতে দেখা যায়। আবার কেউ কেউ গোল হয়ে বসে রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় মেতে ওঠেন।অভিজিৎ দিপক এবং তাঁর সমর্থকেরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁরা এই স্থান ছাড়বেন না। আর এমনটা যদি সত্যিই ঘটে, তবে মোদির ১২ বছরের শাসনকালে এটিই হবে প্রথম কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category