নবনিযুক্ত তিন প্রধান বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কোকো এইচ উশিয়ামা; পার্টনারস ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি) সচিবালয়ের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. জোসেফ আকিনকুগবে অ্যাডেলেগান ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) চিফ অব মিশন ড. লরা নিকোল টম-বন্ডে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় নবনিযুক্ত তিন জন প্রতিনিধি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এসময় তিন প্রতিনিধিকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিন্ন উন্নয়ন ও মানবিক অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করতে বাংলাদেশের আগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া অভিন্ন অগ্রাধিকারকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রফেসর ড. অ্যাডেলেগানের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যের প্রচারে পিপিডির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং আস্থা প্রকাশ করেন যে, টেকসই উন্নয়ন এবং জনসংখ্যা সম্পর্কিত উদ্যোগে পিপিডি এর অবদানকে আরও জোরদার করবে।
উশিয়ামার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, স্কুলে খাওয়ানো এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ডব্লিউএফপির দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন। তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতি ডব্লিউএফপির অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গা প্রতিক্রিয়ায় টেকসই আন্তর্জাতিক সমর্থনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ড. টম-বন্ডের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ ও আইওএম কীভাবে সম্ভাব্য অভিবাসীদের জন্য জনশিক্ষা ও বাজার-প্রাসঙ্গিক দক্ষতা জোরদার করতে, অভিবাসন চক্রজুড়ে ডেটা সিস্টেম উন্নত করতে, নিরাপদ ও নিয়মিত পথ সম্প্রসারণ এবং সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিবাসন সংক্রান্ত গ্লোবাল কম্প্যাক্ট বাস্তবায়ন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সাড়া এবং সংকট কবলিত দেশগুলোতে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তায় আইওএমের অবদানের প্রশংসা করেন। ড. টম-বন্ডে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।