• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তিতুমীর কলেজের শহীদ মামুন হলে লিফট বিকল, আটকা পড়েন ৯ আবাসিক শিক্ষার্থী রেজা হাসান বাদ, সিলেটের ডিসি হলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন বিনিয়োগ-বান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার সম্ভাব্য সবকিছু করবে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মাধ্যমে তিতুমীর কলেজে ‘লহু রাঙা জুলাই’ উদযাপন  চট্টগ্রাম বিভাগে অতিবৃষ্টি, পাহাড় ধসে ৩০ মৃত্যু নীলফামারীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন, ১৪শিশুকে পুরস্কার প্রদান কমলগঞ্জে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন।প্লাবিত বিস্তীর্ণ জনপদ ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বন্যার আশঙ্কা, আগামী তিন দিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা বুয়েটে ভেটিভারভিত্তিক জৈব প্রকৌশল বিষয়ে দুই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হাম উপসর্গে ২ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮১৮

বাবার দেশের বিপক্ষে ছেলের বিশ্বকাপ

ইউনাইটেড ডেস্ক / ৫৩ Time View
Update : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম ম্যাচ, বয়স মাত্র ২২। আজ মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে গোলের পর এক ভিন্ন দৃশ্যের জন্ম দিয়েছেন ইয়াসিন আয়ারি। কারণ, যে দলের জালে বল পাঠিয়েছেন, সেই তিউনিসিয়াই তাঁর বাবার দেশ।

গোল করলে বেশির ভাগ ফুটবলারের প্রতিক্রিয়া হয় উল্লাস, দৌড়, চিৎকার, দর্শকের কাছে ছুটে যাওয়া, সতীর্থদের আলিঙ্গন। কিন্তু ইয়াসিন আয়ারি বেছে নিলেন অন্য পথ। তাকে জড়িয়ে সবাই  উল্লাস করছেন। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস সবার মধ্যে। জটলার ফাঁক থেকে বেরিয়ে দুই হাত উঁচিয়ে ধরলেন দর্শকের দিকে। চোখমুখে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গি। এরপর লুটিয়ে পড়লেন সিজদায়।

সুইডেনের সোলনায় জন্ম নেওয়া আয়ারির বাবা তিউনিসিয়ান, মা মরোক্কান বংশোদ্ভূত। যে কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার সামনে তিনটি পথ ছিল—সুইডেন, তিউনিসিয়া কিংবা মরক্কো। শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নেন জন্মভূমি সুইডেনকে। ছোটবেলা থেকেই সুইডেনের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছেন, সেই পথেই হাঁটতে চেয়েছেন। আর এই সিদ্ধান্তে বড় প্রভাবক ছিলেন তাঁর তিউনিসিয়ান বাবাই।
২০২১ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের সময় তিউনিসিয়া কোচ আয়ারির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই সময় সুইডিশ সংবাদমাধ্যম ‘আফতনব্লাদেত’কে আয়ারির বাবা আজ্জুজ আয়ারি বলেছিলেন, তিনি চান ছেলে সুইডেনের হয়েই খেলুক। তাঁর ভাষায়, যে দেশ তাঁদের আশ্রয় দিয়েছে, বড় করেছে, সেই দেশের প্রতি কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার দায়ও আছে।

২০২২ বিশ্বকাপে জায়গাই হয়নি সুইডেনের। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবারের বিশ্বকাপে ফেরাটা তাই দেশটির জন্য ছিল বিশেষ এক উপলক্ষ। আর ভাগ্যের কী পরিহাস, ফেরার মঞ্চেই সুইডেন পেল তিউনিসিয়াকে—যে দেশের সঙ্গে আয়ারির রক্তের সম্পর্ক।
একই গ্রুপে নেদারল্যান্ডস ও জাপানের মতো প্রতিপক্ষ থাকায় সুইডেনের জন্য ম্যাচটির গুরুত্বও ছিল অনেক। খুব দরকার ছিল একটি জয়। আর ঠিক এমন এক সন্ধ্যাতেই ম্যাচের সপ্তম মিনিটে তিউনিসিয়ার জালে বল জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দিলেন তিউনিসিয়ান রক্ত বহন করা আয়ারি।
শুধু শুরুটাই নয়, ম্যাচের ইতিটাও টেনেছেন ইংল্যান্ডের ব্রাইটনে খেলা এই মিডফিল্ডারই। ম্যাচের যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে করেছেন দ্বিতীয় গোল। যে গোলের পর বেজে ওঠা শেষ বাঁশিতে নিশ্চিত হয় তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সুইডেনের ৫-১ গোলের জয়।
২২ বছর বয়সী আয়ারি এখন বিশ্বকাপে সুইডেনের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়, যিনি ম্যাচে একাধিক গোল করেছেন। আর এবারের বিশ্বকাপে কাই হাভার্টজ ও ফোলারিন বালোগানের সঙ্গে তিনি এখন যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

তবে সংখ্যার হিসাবের বাইরেও এই ম্যাচটা আয়ারির জন্য বিশেষ হয়ে থাকবে শিকড়ের কারণে। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম দুটি গোল করেছিলেন বাবার দেশের বিপক্ষে, আর সেটি উদ্‌যাপন না করেই। হয়তো স্কোরশিটে গোল দুটি লেখা থাকবে সুইডেনের নামে। কিন্তু সেই দুই গোলের মাঝখানে লুকিয়ে থাকবে এক তরুণ ফুটবলারের দুই পরিচয়ের গল্প—একটি জন্মভূমির, অন্যটি শিকড়ের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category