দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের ব্যবধানের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে গেছে মিসর। সমর্থক, ফুটবলার থেকে শুরু করে কোচ কেউ এমন পরাজয় মেনে নিতে পারছে না। ম্যাচশেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফুটবলার মোস্তফা জিকো। তিনি আবেগ সংবরণ করতে না পেরে অভিযোগ করলেন, আর্জেন্টিনার কাছে মিসরের বিশ্বকাপ নকআউট পর্বের পরাজয়টি ছিল ‘পাতানো’।
জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসানও রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয়লাভ করে। তবে মিশরের খেলোয়াড়রা রেফারিংয়ের বেশ কিছু সিদ্ধান্তে নিজেদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে বলে মনে করেন।
জিকো নিজেও এমন একটি সিদ্ধান্তের শিকার হন। দলের চমৎকার এক সমন্বিত প্রচেষ্টায় করা তার গোলটি ভিএআর-এর মাধ্যমে বাতিল করা হয়। এর কারণ হিসেবে গোলটির ঠিক আগের মুহূর্তে একটি সন্দেহজনক ফাউলকে দায়ী করা হয়েছিল।
এছাড়া দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ যখন হেড করে জয়সূচক গোলটি করেন। তার ঠিক আগের মুহূর্তে পেনাল্টি বক্সের ভেতর মোহাম্মদ সালাহকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
মিশরীয়রা মনে করে, সেখানে তাদের পেনাল্টি পাওয়ার জোরালো দাবি ছিল। এই ঘটনাটি মিশরীয় ডাগআউটে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। একপর্যায়ে ম্যাচের রেফারি দলের একজন স্টাফ সদস্যকে লাল কার্ড দেখান। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার ঠিক পরপরই আবেগে আপ্লুত জিকো নিজের ক্ষোভ আর চেপে রাখতে পারেননি।
তিনি বলেন, রেফারির পারফরম্যান্স ভালো ছিল না, তিনি পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। তার অবিচার ছিল স্পষ্ট। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি আমাদের প্রতি বৈরী আচরণ করেছেন। তিনি চাননি আমরা জিতি। এটি ছিল একটি পাতানো ম্যাচ। এতে আমাদের কোনো দোষ ছিল না। ওই রেফারি মনে হচ্ছে ম্যাচটি আগে থেকেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল। আমরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলাম, আর তারা ক্রমাগত আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছিল। মনে হচ্ছে, আরও একটি বিশ্বকাপ জয়ের জন্য আর্জেন্টিনাকে অভিনন্দন জানাতেই হচ্ছে।
তিনি বলেন, তারা যদি কেবল নিজেদের যোগ্যতায় জিতত, তবে পরিস্থিতি আমাদের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। তবে শেষ আর্জেন্টিনা টানা তিন গোল করে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায়।