• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে চেক প্রজাতন্ত্র মাদ্রাসার টয়লেটে মিললো গুলিসহ রিভলবার, গায়ে লেখা ‘মেইড ইন পকিস্তান বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমলো নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিতে সম্মান জানাবেন সংসদ সদস্যরা মমতাকে বাংলাদেশে চলে যেতে বললেন: দিলীপ ঘোষ সাগর–রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছাল ১২৭ বার অভিন্ন প্রশ্নে হবে এইচএসসি পরীক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিকল্প ব্যবস্থা নিষিদ্ধ আ.লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না : প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দেশের ১৭ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা মহাখালীতে নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল-ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩

আশাবাদে ভারাক্রান্ত বাজেট, বাস্তবায়নে শঙ্কা দেখছে ইসলামী আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩২ Time View
Update : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘আশাবাদে ভারাক্রান্ত’ উল্লেখ করে এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, বাজেটে এত বেশি আশাবাদের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে যে সেটিকে আশাবাদে ভারাক্রান্ত বলেই মনে হয়। তাঁর মতে, বাজেটটি সুলিখিত হলেও বাস্তবায়ন সহজ হবে না।

তিনি বলেন, বাজেট বক্তৃতায় জুলাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, সমাজ-সংস্কৃতির বুনন, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, জনমিতিক লভ্যাংশ, দীর্ঘজীবিতা লভ্যাংশ ও গণতান্ত্রিক লভ্যাংশের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ন্যায্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, যা প্রশংসার দাবিদার।

তবে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠন, মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রাকে বর্তমান বাস্তবতায় কঠিন বলে মনে করছে দলটি। গাজী আতাউর রহমান বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করার পরও এমন উচ্চাশা অনেকটা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মতো মনে হয়। জনগণকে অর্জন-অযোগ্য স্বপ্ন দেখানোর পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা এবং মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৪০ শতাংশে নেওয়ার যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে, তা অর্জন করাও চ্যালেঞ্জিং হবে।

বাজেটে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি, ক্রীড়া অর্থনীতি, সবুজ অর্থনীতি ও সুনীল অর্থনীতিকে জাতীয় অর্থনীতির কেন্দ্রীয় অবস্থানে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ইসলামী আন্দোলন।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় এনে কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্যকেও কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যাগ্রস্ত। এই খাতে সংস্কার আনতে অন্তর্বর্তী সরকারকেও প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছিল।

ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির লক্ষ্যে সরকারকে সাধুবাদ জানালেও নীতিগত দুর্বলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সংস্কারে অনীহাকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন তিনি।

ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিয়ে বাজেটে যে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে, তার বাস্তব ভিত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে রাজনৈতিক ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে এবং ইসলামী ব্যাংকে রাজনৈতিক কারণে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতির বিপরীত চিত্র ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান।

তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নের আগে ব্যবসায়ী ও সমাজের উচ্চস্তরের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা হলেও শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হয় না। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। জনসাধারণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণ হ্রাসের নীতিকে স্বাগত জানিয়েছে দলটি।

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ উন্নয়ন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্যপ্রযুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায় ইসলামী আন্দোলন।

শিক্ষাখাতে আধুনিকায়ন, বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা, পেশা নির্বাচনে বহুমুখিতা, মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ ও স্টার্টআপের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনাও আশাব্যঞ্জক বলে মনে করে দলটি। তবে অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয় বলেও মন্তব্য করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন।

ধর্মীয় উপাসনালয়ের নেতৃত্বকে সম্মানি হিসেবে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবের প্রশংসা করে দেশের সব মসজিদের ইমামকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং করপোরেট কর না বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দলটির মুখপাত্র বলেন, বিদ্যমান কর কাঠামোর মধ্যেই আদায়যোগ্য কর যথাযথভাবে সংগ্রহ করা গেলে বাজেটে ঘাটতির আশঙ্কা থাকবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category