বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরও রাজশাহীতে সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচিত ওয়ালিদুর রহমান, মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মাসুদ রানা এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সোহাগ আদিফের বিরুদ্ধে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে তাঁদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ, অসহায়দের মধ্যে খাবার বিতরণ, দোয়া ও মোনাজাত, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্বালন, পোস্টারিং ও ঝটিকা মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁদের উপস্থিতি দেখা গেছে। রাজশাহী কলেজ, গোদাগাড়ী উপজেলা ভবন,রাজশাহী নগর ভবন ও মোহনপুর বাজারের কয়েকটি দেয়ালে ওয়ালিদুর রহমানের নামে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোস্টারিং করার অভিযোগও রয়েছে।
তবে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা ও রাজশাহী শহরে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর আওতায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ সত্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির নামে পোস্টারিং ও কর্মসূচির খবর প্রকাশিত হয়েছে। রাজশাহীতেও নিষেধাজ্ঞার পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের তৎপরতার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ালিদুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগকে কাগজে-কলমে কিংবা মুখে বলে নিষিদ্ধ করা যাবে না। এটি ছাত্রদের সংগঠন। খুব শিগগিরই আমাদের আপা (শেখ হাসিনা) দেশে ফিরবেন। আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাব। এ কথা বলার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অপর ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ রানা ফোন রিসিভ করলেও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো বক্তব্য না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সোহাগ আদিফের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মোহনপুর থানার (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নামে প্রকাশ্য কর্মসূচি পরিচালনার অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে।