জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের কোটা সংস্কারে পক্ষে আন্দোলেনাকারীদের নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তিন সাংবাদিককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এদিন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে আনা সাংবাদিকরা হলেন, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, প্রধান প্রতিবেদক উপস্থাপক ফারজানা রুপা এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।
প্রসিকিউশন জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গত ১৭ আগস্ট তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চায় রাষ্ট্রপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ হাজির করতে বলেছেন ট্রাইব্যুনাল। তিনজনকেই এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হবে।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর প্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলেছিলেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করাই সাংবাদিকদের দায়িত্ব। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতেন কিছু নির্দিষ্ট সাংবাদিক। তারা যেসব বক্তব্য দিতেন, সেসব কোনো প্রশ্ন ছিল না। ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা। তাকে দিয়ে নির্দিষ্ট কথা বলানোর জন্য কিছু উসকানিমূলক প্রস্তাব। এ কারণেই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
প্রসিকিউশন জানায়, এটি কোনো পুরোনো মামলার অংশ নয়। নতুন করে হওয়া ‘মিস কেস’ বা বিবিধ মামলা। এ ঘটনায় ১৪ জুলাইয়ের উসকানিমূলক প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি এখনও তদন্তাধীন।