শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদলের দুই নেতাকে চার সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে বহিষ্কারকালীন সময়ে তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধসহ একজনের আবাসিক হলের সিটও বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তারেক রহমান (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২০২১১৩৪০১৩) এবং পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২০২১২৩৫০২৭)-কে চার সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারকালীন সময়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এছাড়া, তারেক রহমানের শাহপরাণ হলের আবাসিক সিট বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী হিসেবে ওই হলে আবাসিক সিটের জন্য আবেদন করার সুযোগও তার জন্য আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিন্ডিকেট সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার জন্য উভয় শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এর আগে একই ঘটনায় গত রবিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ শাবিপ্রবি শাখার যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।