জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবহণ ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আরও কার্যকর করতে চালু হয়েছে বাসের লাইভ ট্র্যাকিং সিস্টেম ‘আইট্র্যাকার’। নতুন এই সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে চলাচলকারী বাসগুলোর রিয়েল-টাইম অবস্থান জানতে পারবেন। এতে বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যাতায়াতজনিত ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রবিবার (১৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্র্যাকিং সিস্টেমের উদ্বোধন করেন। ‘স্মার্ট পরিবহণ, স্মার্ট ক্যাম্পাস’ স্লোগানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, “প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার মানুষের জীবনকে সহজ, নিরাপদ ও দক্ষ করে তোলে। নতুন এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে বাসের অবস্থান জানতে পারবেন। ফলে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি যাতায়াত আরও পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ট্র্যাকিং সিস্টেম শুধু যাত্রীসেবা বাড়াবে না, পরিবহণ ব্যবস্থাপনায়ও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। নির্ধারিত রুটের বাইরে কোনো বাস চলাচল করলে তা সহজেই শনাক্ত করা যাবে। এতে জ্বালানি অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করাও সহজ হবে।
সেবাটির কার্যকারিতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্য বলেন, ” শুধু প্রযুক্তি চালু করাই নয়, এটিকে নিয়মিত, কার্যকর ও টেকসইভাবে পরিচালনা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনের দাবি ছিল। জাকসু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিবহণ খাতকে শিক্ষার্থীবান্ধব ও আধুনিক করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ইলেকট্রিক কার্ট ও অটোরিকশা চালুর উদ্যোগের পর এবার যুক্ত হলো লাইভ ট্র্যাকিং সেবা।”
তিনি জানান, ‘নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মোবাইল ফোনেই জানতে পারবেন বাসের বর্তমান অবস্থান এবং নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে সম্ভাব্য কত সময় লাগবে। এতে যাতায়াত আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পরিবহণ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, ইফাদ গ্রুপের প্রতিনিধিসহ জাকসুর নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।