• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন

জুলাই সনদ নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে: ফখরুল

ডেস্ক নিউজ / ১৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অপব্যাখ্যা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা চলছে। জুলাই কারো দলের সম্পত্তি নয়।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এমাজউদ্দীন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার এই সভার আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‍“জুলাই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; এটি ছিল গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এখন কিছু মহল এটিকে ক্ষমতার রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। বিএনপি সেই সুযোগ কাউকে দেবে না।”

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সনদে অংশগ্রহণকারী দলগুলো যৌথভাবে স্বাক্ষর করলেও এর সব বিষয়ে বিএনপি একমত ছিল না। বিশেষ করে উচ্চকক্ষ গঠন ও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে দলের ভিন্ন অবস্থান ছিল। তারপরও এসব বিষয় এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন সব রাজনৈতিক দলের অভিন্ন মত ছিল।”

মন্ত্রী বলেন, “প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী জনগণের কাছে যাবে। কিন্তু জুলাই সনদের কিছু বিষয় নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।”

সংবিধান সংস্কার বিতর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “বিএনপি রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে থাকলেও দলটি সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। এ দুটি বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই।”

তিনি দাবি করেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি এবং জুলাই সনদের লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

বিএনপির আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, “গত দেড় দশকে দলের হাজারো নেতাকর্মী গুম, হত্যা ও রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন।” তার ভাষায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্থিরতা বাড়লেও বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সহনশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।”

স্মরণসভায় প্রয়াত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “তিনি ছিলেন একজন নির্ভীক গণতন্ত্রকামী বুদ্ধিজীবী, যিনি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন। তার আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।”

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজনরা অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদের কর্মজীবন, রাষ্ট্রচিন্তা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান তুলে ধরেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category