লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম বলেছেন, বর্তমানে মেধার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়কেই যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যোগ্যতা না থাকলেও শুধু দলীয় পরিচয়ের কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির লক্ষ্মীপুর শহর শাখা আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতা-২০২৬’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘যতদিন চাঁদাবাজি, অন্যায়-অবিচার এবং গণরায়কে যারা প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশকে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত করার অপচেষ্টা চালাবে, ততদিন জুলাইয়ের চেতনা জাগ্রত থাকবে। আমরা হয়তো কেউ থাকব না, কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে শহীদ ওসমান হাদীর স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন হয়েছিল কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। কিন্তু এখন সারা বাংলাদেশে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষিত, অশিক্ষিত কিংবা অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে। তাহলে আগের কোটার দোষ কী ছিল? এখন নতুন করে অন্য আঙ্গিকে কোটা চালু করা হচ্ছে। মেধার পরিবর্তে শুধু দলীয় পরিচয়কে যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যার যে বিষয়ে যোগ্যতা নেই, তাকেও দলীয় পরিচয়ের কারণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হচ্ছে। সিটি করপোরেশন, ওয়াসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ড. রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘বিগত সরকার ১৫ বছরে যে কর্মকাণ্ড করেছে, বর্তমান সরকার দেড় মাসেই তা করেছে। কোটা ব্যবস্থা যায়নি, বরং নতুনভাবে ফিরে এসেছে। এই সরকারও জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং জনগণের ৭০ শতাংশ রায়কে অবজ্ঞা করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে ক্রেস্ট, বই ও বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির লক্ষ্মীপুর শহর শাখার সভাপতি আব্দুল আউয়াল হামদুর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন ফয়সালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক মুশফিকুর রহমান এবং জামায়াতে ইসলামী লক্ষ্মীপুর শহর শাখার আমীর ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল ফারাহ নিশান।