• বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন

৪৫ বছর বয়সে এসএসসি পাস কাঠমিস্ত্রি নাসিমুল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: / ২৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"resize":2,"square_fit":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

বয়স কিংবা সংসারের দায়িত্ব যে শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার কাঠমিস্ত্রি মো. নাসিমুল হক। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন পড়াশোনা থেকে দূরে থাকলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের জোরে ৪৫ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

সোমবার (১০ আগস্ট) ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নাসিমুল হকের সাফল্যের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে সহকর্মী, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। অনেকেই তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

নাসিমুল হক ভোলাহাট উপজেলার গোহালবাড়ী ইউনিয়নের তিলোকী গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন কাঠমিস্ত্রি। কাঠের আসবাবপত্র তৈরি ও নকশার কাজের পাশাপাশি তিনি ভোলাহাট উপজেলা ফার্নিচার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় তিনি রাজশাহী কমার্স কলেজ (ভোকেশনাল) থেকে অংশ নেন। পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি।

নাসিমুল হক জানান, সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার কারণে ২০০২ সালে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর জীবিকার প্রয়োজনে কাঠমিস্ত্রির পেশায় যুক্ত হন। সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পরও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তার মনের মধ্যে সবসময়ই ছিল। সন্তানদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়া এবং নিজের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার স্বপ্ন পূরণের তাগিদেই শেষ পর্যন্ত এই বয়সে আবার বই-খাতা হাতে তুলে নেন তিনি।

তিনি বলেন, “ইচ্ছা থাকলে বয়স কখনো বাধা হতে পারে না। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। এসএসসি পাস করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। সামনে আরও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।”

নাসিমুলের এই সাফল্যকে অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রাও। ভোলাহাট উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. লোকমান আলী বলেন, সংসার ও পেশাগত দায়িত্ব সামলে ৪৫ বছর বয়সে নাসিমুলের এমন ফলাফল সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই সাফল্য বয়স্ক ও পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়া মানুষকে নতুন করে শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করবে।

স্থানীয়দের মতে, জীবিকার কঠোর সংগ্রামের পাশাপাশি শিক্ষার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখে শেষ পর্যন্ত সফল হওয়া নাসিমুল হকের গল্প শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং এটি বয়স, পেশা ও পারিবারিক দায়িত্বের ঊর্ধ্বে শিক্ষার প্রতি মানুষের অদম্য আকাঙ্ক্ষার একটি অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category